জাসদের ইশতেহারে ৩৮ প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের সামনে তাদের দলীয় ইশতেহার ঘোষণা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) তাদের দলীয় ইতেহার ঘোষণা করেছে। ‘পরিবর্তনের ধারা সংহত করা ও এগিয়ে নেয়াই আমাদের লক্ষ্য’-স্লোগানে দলটি ৩৮টি বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাসদ। সেগুলো হলো-

১. সরকার পরিচালনায় ভারসাম্য, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে জনআকাংখার প্রতিফলন ঘটানো।

২. রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অনুসরণ- সরকার পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিধৃত মূল রাষ্ট্রীয় চার নীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ অনুসরণ করা।

৩. মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা- মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়কে অমীমাংসিত না করা ও ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত ও অস্বীকার না করা, মুক্তিযুদ্ধে যার যা অবদান তার স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শন করা, মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় বীরের মর্যাদা সহ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, আর্থিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করা।

৪. দুর্নীতি মোকাবেলা- জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে সরকার এবং সংসদে দূর্নীতির বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণতা নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণে সোচ্চার ভূমিকা রাখবে।

৫. জঙ্গীবাদ দমন।
৬. যুদ্ধাপরাধের বিচার।
৭. ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ।
৮. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সুশাসন ও আইনের শাসন।

৯. আইন-শৃংখলা- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পরিচালনা করা, স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া, এ সকল সংস্থার দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।

১০. সংসদ ও নির্বাচন পদ্ধতি সংষ্কার।
১১. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ।

১২. শিক্ষা- জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে শিক্ষা ব্যবস্থার নিম্নমান-নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা-বিপর্যয়-সংকটকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার প্রদান করে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে জাতীয় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১৩. তরুণদের ভবিষ্যত নির্মাণ।
১৪. কর্মসংস্থান- গ্রাম-শহর, শিক্ষিত-নিরক্ষর, দক্ষ-অদক্ষ নির্বিশেষে সকল কর্মক্ষম নাগরিকের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড প্রদান করা, প্রতি পরিবারে কমপক্ষে একজনের জন্য বছরে অন্তত ১০০ দিনের নিশ্চয়তাসহ কাজের ব্যবস্থা করা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করা এবং বিদেশে শ্রম বাজার সৃষ্টির জন্য বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।

১৫. মাদকের ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা।

১৬. নারী সমাজের উন্নয়ন- নারীর প্রতি বৈষম্যমুলক সকল আইন বাতিল করা, ১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, জাতীয় সংসদে ৩৩% ভাগ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ ও সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠান, স্থানীয় সরকার সংস্থায় ৩৩% ভাগ প্রতিনিধিত্ব নারীদের জন্য সংরক্ষণ।

১৭. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা, দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ বাঁচাতে রাষ্ট্রীয় সমর্থন।

১৮. সামষ্টিক অর্থনীতি- জাতীয় উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ জাতীয় অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করা। ব্যক্তি-সমাজ-বাজার-রাষ্ট্রের সমন্বয় ও পরিকল্পনার আওতায় কাঠামোগত অন্যায্যতা দূর করার দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয় মালিকানায় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পুনরায় চালু করা।

১৯. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি- গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও অকৃষি খাতের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান তৈরির বিশেষ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

২০. জাতীয় শিল্প- ম্যানুফ্যাকচারিং সহ ক্ষুদ্র-মাঝারি ও বিকাশমান শিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ দেশজ মালিকানাকে ব্যাপক সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের আওতায় নিয়ে আসা, আমদানি শুল্ক বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে আমদানি শুল্ক আরো বাড়ানোর জন্য সরকারের স্বাধীনতা বজায় রাখতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া, দেশজ মালিকানার শিল্প সংরক্ষণে ঋণ ও অবকাঠামো সুবিধা এবং কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দেয়া।

২১. সেবাখাত- শিক্ষা-চিকিৎসা-পানির মতো মৌলিক সেবা খাত থেকে রাষ্ট্রের হাত গুটিয়ে নেয়ার নীতি পরিহার করা, বাংলাদেশের সেবাখাতকে অর্থনীতির প্রধানতম, বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে একে সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের আওতায় নিয়ে আসা।

২২. শ্রমিক ও নারী শ্রমিক- শহর-গ্রাম, কৃষি-শিল্প-সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক, নারী-পুরুষ, সরকারি-বেসরকারি-ইপিজেড নির্বিশেষে সকল ক্ষেত্রের শ্রমিকের শ্রমিক হিসাবে রেজিস্ট্রেশন করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা, ন্যূনতম জাতীয় মজুরি চালু করা, অপ্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষিক্ষেত্রে শ্রম আইন চালু করা, নারী শ্রমিকের সম কাজে সম মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে অবদান রাখবে।

২৩. হতদরিদ্র, নগর দরিদ্র ও বস্তিবাসী, গ্রামীণ ভূমিহীন ও বাস্তুহারা- বস্তিবাসীর রেজিস্ট্রেশন করা, পুনর্বাসন ব্যতিরেকে হকার-বস্তি উচ্ছেদ না করা, বস্তিবাসীর জন্য মৌলিক পরিসেবা নিশ্চিত করা, আবাসন প্রকল্প চালু করা, গ্রামীণ ভূমিহীন ও বাস্তুহারাদের খাস জমিতে পুনর্বাসন করা, হতদরিদ্রদের জন্য সকল ব্যাংকের মোট আমানতের ৫% দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলকভাবে বিনিয়োগ করা।

২৪. প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ।

২৫. জনস্বাস্থ ও জনসংখ্যা- সকল নাগরিকের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ কার্ড প্রদান করে সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুযোগ নিশ্চিত করা, উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত ও সহজলভ্য করা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে কমিয়ে নেতিবাচক হারে আনার জন্য পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২৬. ভূমি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা- ভূমি সংস্কার এবং ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গ্রাম ও শহরের জন্য ভূমি ব্যবহার নীতি প্রণয়ন করা, ভূমি কমিশন গঠন করা, খাস জমি, সিলিং উদ্বৃত্ত জমি, বেদখলকৃত জমি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, কোন জমি বিদেশী কোম্পানির কাছে স্থায়ী হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা।

২৭. বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

২৮. গ্যাস-কয়লা সহ জাতীয় সম্পদ- গ্যাস ও কয়লা সহ খনিজ সম্পদ এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের ওপর জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করা। গ্যাস-কয়লা সহ অনুসন্ধান-উত্তোলন-বিপণনের ক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানির সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল অসম গোপন উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি বাতিল করা।

২৯. প্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ।
৩০. পানি সম্পদ-নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া।
৩১. পরিবেশ, প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তন- প্রাণবৈচিত্র, পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বিরোধী সকল কার্যক্রম কঠোরভাবে বন্ধ করা।

৩২. নিরাপদ সড়ক- সড়ক-মহাসড়কে অব্যাহত দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক-ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৩৩. বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো- চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ণ করা, মংলা বন্দরকে সচল ও সম্প্রসারিত করা, পায়রা সমুদ্র বন্দরের নির্মাণ কাজ তড়িৎ গতিতে সম্পূর্ণ করে পুরোদমে বন্দরের কাজ চালু করা। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ শুরু করা।

৩৪. ধর্মীয়, জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করা।
৩৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি- সকল নাগরিকের নির্ভয়ে শান্তিতে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা।

৩৬. জাতীয় নিরাপত্তা- জাতীয় সংসদে আলোচনা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনগণের অংশগ্রহণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমন্বিত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা। ১৮ বছরের উর্ধে সকল নাগরিককে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

৩৭. রোহিঙ্গা ইস্যু- মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর জাতিগত নিপীড়ন ও নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিঃশর্তভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগের পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ বাড়াতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা নিরবচ্ছিন্ন ও জোরদার করতে ভূমিকা রাখা।

৩৮. পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক-উপআঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।