উইন্ডিজকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
সিলেট স্টেডিয়ামে প্রথমবার ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমেই জয়ের ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানেডে ট্রফি নিজেদের করে নিলো মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট দল। এর আগে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে সাকিব আল হাসানের বাহিনী। আগামী সোমবার সিলেটের এই ভেুন্যতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে।

শুক্রবারের এই জয়ের মধ্য দিয়ে এক বছরে সবচেয়ে বেশি (২০টি) ওয়ানডে জয়ের রেকর্ড গড়লো টাইগাররা। চলতি বছরে এ নিয়ে ৪১টি ম্যাচ খেলে ২০টিতে জয় পায় বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৬ সালে ৩৩ ম্যাচে ১৯টিতে জয় পেয়েছিলো টাইগাররা।

প্রথমে ব্যাট করে শাই হোপের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে উইন্ডিজ। টার্গেট তাড়া করতে নেমে তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের জোড়া ফিফটিতে ৬৯ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ দল। ২-১ ব্যবধানে উইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ জিতে নিলো ২৪তম ওয়ানডে সিরিজ।

ক্রিকেট পাড়া ও সমর্থকদের মধ্যে কিছুদিন থেকেই গুঞ্জন ২০১৯ বিশ্বকাপের পর আর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হয়ে মাঠে দেখা যাবে না মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। যদিও অধিনায়ক নিজে সরাসরি কখনোই তেমন কিছু বলেননি তবুও মাঝে মাঝেই তার আভাস কিছুটা দিয়েছেন। সে হিসেব করলে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আগে শুক্রবারের (১৪ ডিসেম্বর) এই ম্যাচটিই বাংলাদেশে দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ। তাই আলোচনায়, সর্বত্র মাশয়ারফির ‘শেষ’ ম্যাচ।

৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম ইকবাল। ৮১ বলে ৮০ রান করে আউট হন সৌম্য সরকার। ১৬ রানে অপরাজিত থেকে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়নে মুশফিকুর রহীম। লিটন দাস করেন ২৩ রান। রোভম্যান পাওয়েলের বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে জয় উপহার দেন তামিম ইকবাল।

সময়মতই জ্বলে উঠলেন সৌম্য সরকার। অবশেষে রানের দেখা পেয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত তার ব্যাট হাসলেও সৌম্য সরকার জাতীয় দলে সুযোগ পেলেই কেন যেন চুপসে যান। রানের খাতা খোলার পরপরই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসতে হয়; কিন্তু সিলেটে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ঠিকই কথা বললো তার ব্যাট।

৬২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করার পর ৮১ বলে খেললেন ৮০ রানের এক দুরন্ত ইনিংস। ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে মেরেছেন ৫টি ছক্কার মার। তার এই টর্নেডো ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে গড়ে ওঠে অনবদ্য ১৩৬ রানের জুটি। যেটার ওপর ভর করে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যেতে পারলো বাংলাদেশ।

৮০ বলে ৮০ রান করার পর ৮১তম বলে এসে কিমো পলের বলে বোল্ড হয়ে গেলেন সৌম্য। তার ব্যাট এবং প্যাডের ফাঁক গলে এসে স্ট্যাম্পে আঘাত হানে বল। সৌম্য যখন আউট হন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। তবুও বলতে হবে, তার আউটটা ছিলো বোলারের সাফল্য।

সৌম্য যখন আউট হন তখন বাংলাদেশের রান ছিলো ১৭৬। জয়ের জন্য বাকি ২৩ রান অনায়াসেই তুলে নেন তামিম এবং মুশফিকুর রহীম। সৌম্য ঝড় তুলে আউট হয়ে গেলেও শান্ত এবং ধীরস্থির হয়ে ব্যাটিং করে যান তামিম ইকবাল। তিনি খেলেছেন ১০৪ বল। ৯টি বাউন্ডারি মারলেও কোনো ছক্কার মার ছিলো না তার ব্যাটে। বাউন্ডারি মেরেই তিনি বাংলাদেশের রানকে নিয়ে যান ২০২ এর ঘরে।

জয়ের জন্য ১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সূচনাটা ভালো করে দিয়ে গিয়েছিলেন ওপেনার লিটন দাস। তামিম ইকবালের সঙ্গে খেলে দিয়েছেন প্রথম ১০ ওভার। জুটি গড়েছিলেন ৪৫ রানের। যদিও নিজের ভুলে সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন।

আগের ম্যাচে ক্যারিবীয় পেসার ওশান থমাসের ইয়র্কার পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিলো লিটন দাসকে। ব্যাটিংটা করতেই পারেননি তিনি। যদিও ইনজুরিটা মারাত্মক ছিলো না। যে কারণে সিরিজের শেষ ম্যাচেও খেলতে নামতে পারলেন তিনি।

শুধু মাঠে নামাই নয়, ক্যারিবীয়দের ছুড়ে দেয়া ১৯৯ রানের জবাব দিতে নেমে তামিম ইকবালের সঙ্গে উড়ন্ত সূচনা করেছিলেন লিটন দাস। ক্যারিবীয় বোলার কেমার রোচ, রস্টোন চেজ কিংবা কিমো পলদের ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন লিটন-তামিম। কিন্তু ছন্দপতনটা ঘটালেন লিটন নিজেই। কিমো পলের ১১তম ওভারের প্রথম বলটি সুইপ করতে গিয়েই ধরা খেলেন তিনি। বল ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যায় মিডঅনে। সেখানে ফিল্ডার দাঁড়ানো ছিলো রোভম্যান পাওয়েল। সহজেই বলটি জমা পড়ে পাওয়েলের হাতে। ৩৩ বলে ২৩ রান করে ফিরে গেলেন লিটন দাস। ৫টি বাউন্ডারির মার ছিলো তার ব্যাটে।

লিটনের আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন সৌম্য সরকার। জুটি বাধেন তামিমের সঙ্গে। দুইজনের ব্যাটে ১৩৬ রানের দারুণ একটি জুটি গড়ে তোলেন সৌম্য সরকার। ৩৬তম ওভারে এসে ভাঙে এই জুটি।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাই হোপের অনবদ্য সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৯৮ রান। ১৩১ বলে ১০৮ রান করে অপরাজিত থাকেন সাই হোপ। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে তিনিই বাংলাদেশের জয় কেড়ে নেন। এবারো তিনি সেঞ্চুরি করলেন।

হোপ ছাড়া ক্যারিবীয়দের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মারলন স্যামুয়েলস, মাত্র ১৯। ১২ রান করেন কিমো পল এবং ১০ রান করেন ড্যারেন ব্র্যাভো। বাকিরা দুই অংকের ঘরও স্পর্শ করতে পারেননি। ৪ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসা ও মাশরাফি বিন মর্তুজা। ১ উইকেট নেন সাইফুদ্দিন। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ফল: আট উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস: ১৯৮/৯ (৫০ ওভার)
(চন্দরপল হেমরাজ ৯, শাই হোপ ১০৮*, ড্যারেন ব্রাভো ১০, মারলন স্যামুয়েলস ১৯, শিমরন হেটমায়ার ০, রোভম্যান পাওয়েল ১, রস্টন চেজ ৮, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ৬, কিমো পল ১২, কেমার রোচ ৩, দেবেন্দ্র বিশু ৬*; মোস্তাফিজুর রহমান ০/৩৩, মেহেদী হাসান মিরাজ ৪/২৯, সাকিব আল হাসান ২/৪০, মাশরাফি বিন মর্তুজা ২/৩৪, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১/৩৮, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/১৪)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ২০২/২ (৩৮.৩ ওভার)
(তামিম ইকবাল ৮১*, লিটন দাস ২৩, সৌম্য সরকার ৮০, মুশফিকুর রহিম ১৬*; কেমার রোচ ০১/৬, রস্টন চেজ ০/৩২, কিমো পল ২/৩৮, মারলন স্যামুয়েলস ০/২৫, দেবেন্দ্র বিশু ০/৪৮, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ০/২২, রোভম্যান পাওয়েল ০/২১)।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী বাংলাদেশ।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মেহেদী হাসান মিরাজ (বাংলাদেশ)।

প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: শাই হোপ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।