মাদারীপুরে পুলিশ হত্যায় ২০ চরমপন্থির যাবজ্জীবন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
এক যুগের বেশি সময় আগে মাদারীপুরে পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তাসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনায় চরপন্থি দল সর্বহারা পার্টির ২০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনির কামাল এই রায় ঘোষণা করেন।

এ মামলার ২৬ আসামির মধ্যে ছয়জনকে খালাস দেয়া হয়েছে এই রায়ে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ভূমিকা রাখে। তারা জরুরি সেবা দেয়, জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সেতুবন্ধ তৈরি করে। অথচ সর্বহারা নামের এই উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জন্য এই বিচার করেছি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে রাজৈরের পূর্ব শাখারপাড় মোড়ে এসবির এসআই হাসনাইন আজম খান এবং প্রধান অফিস সহকারী মো. কামরুল আলম খান ঠাকুরের মোটরসাইকেল আটকায় সর্বহারা পার্টির সদস্যরা। পুলিশের লোক বুঝতে পেরেই তাদেরকে আটকানো হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে কুমার নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। আজম খান ও কামরুল আলম কার্যালয়ে দুই দিন অনুপস্থিত থাকায় এবং তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় মাদারীপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার তৎকালীন পরির্দশক আবুল খায়ের মিয়া রাজৈর থানায় মামলা করেন। পর্যায়ক্রমে চারজন কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করেন। শেষ পর্যন্ত রাজৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক একরাম আলী মোল্লা ২০০৭ সালের ৬ আগস্ট ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রভুক্ত ৩২ আসামির মধ্যে চারজন বিভিন্ন সময় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এছাড়া আরো দুইজন মারা যান অসুস্থ হয়ে। বিচারের মুখোমুখি হওয়া ২৬ আসামির মধ্যে ১৩ জন পলাতক। ১২ জন হাই কোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। মাত্র একজন ছিলেন কারাগারে।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি মাহবুবুর রহমান বলেন, মামলাটির নথিপত্র ২০০৮ সালে মাদারীপুরের আদালত থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। কিন্তু দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নির্দিষ্ট সময়ে মামলার নিষ্পত্তি না হলে নথিপত্র মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফেরত পাঠানো হয়। পরে আবারো মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসে। হাই কোর্টের আদেশেও বেশ কিছুদিন মামলাটির বিচার স্থগিত থাকে।

১৩ বছর পর রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩৬ জনের সাক্ষ্য শুনে বিচারক বুধবার রায় ঘোষণা করলেন।