হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছে একদল শিক্ষার্থী।

আজ রোববার সকাল ১১টায় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে তারা। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়।

এ সময় হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘যাদের হাত মানুষ গড়ার, তাদের হাতে কেন হাতকড়া,’ ‘শিক্ষক যদি সম্মান না পায়, এমন শিক্ষার দরকার কী’-এ ধরনের লেখা দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অরিত্রির আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় স্কুলটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতী শাখার প্রধান জিন্নাত আরা দায়ী। অথচ তাদের গ্রেপ্তার না করে একজন নির্দোষ শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলো অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেয়ার ঘোষণা দেন।

নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে বেইলি রোডে ভিকারুননিসার ক্যাম্পাস।

আজ মঙ্গলবার রাতে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় পল্টন থানায় ওই মামলা করেন তার বাবা। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে হওয়া মামলায় শিক্ষা ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আরা এবং হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়।

বুধবারও চলে আন্দোলন। এ সময় অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। বিকেলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয় তারা। পরে সন্ধ্যায় ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় ওই তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়।

বুধবার রাতেই রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শিক্ষক হাসনা হেনাকে। বৃহস্পতিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।