বিএনপির ৩২৭ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
লালমনিরহাটে বিজয় দিবসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের হামলায় পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি’র ৩২৭জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধ গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডল এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের র‌্যালীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আসামিদের ছুড়া ইট পাটকলের আঘাতে তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সুশান্ত সরকার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম, উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন এবং দুইজন কনস্টবল আহত হন। পরদিন এ ঘটনায় বিএনপি’র ২৮ জন নেতা-কর্মীর নামসহ অজ্ঞতনামা আরো তিন/চারশত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন। মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) ৪১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল হক। এ মামলার প্রধান আসামি সদর উপজেলার বড়বাড়ির বাসিন্দা হারুন মিয়া তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপর একটি মামলায় ঢাকা কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় আসলাম নামে একজন লালমনিরহাট কারাগারে রয়েছেন।

অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডল ৩২৭ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি তদন্ত করে ৪১৯জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছে।

লালমনিরহাট কোর্ট পরিদর্শক (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালত এ মামলায় ৩২৭ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছেন। আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় আদালতের আদেশনামা পাঠানো হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা বলেন, প্রথম দিকে এ মিথ্যা মামলায় ২৮ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে পুলিশ। এখন নির্বাচনে বিএনপি’কে নেতা-কর্মী শুন্য করতে এবং গনগ্রেপ্তারকে বৈধ্য করতে এ গায়েবী আদেশ দেয়া হয়েছে।