প্রার্থিতা ফিরে পেলেন রনিসহ বিএনপির পাঁচ প্রার্থী

জ্যেষ্ঠ প্রদিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণার পর আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম মাওলা রনিসহ বিএনপির পাঁচজন। রনি মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকায় বাতিল হয়েছিলো। আজ বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে নির্বাচন ভবনের ১১তলায় নির্বাচন কমিশনে রনির আপিলের শুনানি শেষে তার পক্ষে এই সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। সকাল ১০টায় নির্বাচন ভবনের একাদশ তলায় নির্বাচন কমিশনের এই শুনানি শুরু হয়। ৫৪৩টি আপিল আবেদনের মধ্যে ১৬০টি আবেদনের নিষ্পত্তি করার কথা রয়েছে প্রথম দিন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী অস্থায়ী এজলাসে বিচারকের আসনে রয়েছেন।

সদ্য আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে নাম লেখানো গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র গত ২ ডিসেম্বর ‘হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার’ কারণ দেখিয়ে বাতিল করে দেন পটুয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তা।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হওয়া রনির বক্তব্য ছিলো, হলফনামায় স্বাক্ষর না করাটা ছিলো তার ‘সাধারণ ভুল’। এমন ভুলের কারণে অতীতে কখনো কোনো মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে রনির আইনজীবী বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, রনিকে তার হলফনামায় স্বাক্ষরের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এছাড়া জামালপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদারের মনোনয়নপত্রও বৈধতা পেয়েছে। এই উপজেলা চেয়ারম্যানের পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বগুড়া –৭ আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্রও একই কারণ দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছিলো। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তিনিও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২০ আসনে ধানের শীষের তমিজ উদ্দিনও আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল খেলাপী ঋণের জামিনদার হিসেবে ঋণ খেলাপী হওয়ার কারণে। তাকেও প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছে ইসি।

তবে বগুড়া-৪ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্র আপিলেও বৈধতা পায়নি। স্বাক্ষর জালিয়াতির কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বাদ দেয়া হয়েছিল।

বেলা ১২টায় বিরতিতে যাওয়ার আগে দুই ঘণ্টায় মোট ৫০ জনের আপিল শুনানি করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের মধ্যে ২৪ জনেই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থীর আইনজীবী ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমাদের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়েছে কমিশন। এখন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর আমাদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি নির্ভর করছে।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার নামে এবার ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বাতিল করেন।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, মোট ৫৪৩টি আপিল আবেদন পড়েছে। ৬ ডিসেম্বর প্রথম দিন ১ থেকে ১৬০ নম্বর আপিলের শুনানি হবে। ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনে ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর আবদনের শুনানি হবে। আর ৮ ডিসেম্বর শেষ দিন শুনানি হবে ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর আবেদনের।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুনানি শুরু হয়ে নির্ধারিত আবেদন নম্বর শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

মনোনয়নপত্র বাছাইকালে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আওয়ামী লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র রয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩৮৪টি।

৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি, আর স্বতন্ত্র ছিলো ৪৯৮টি।

আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।