শিশু হত্যার অভিযোগে বাবা আটক, জিম্মি ছেলে উদ্ধার

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
রাজধানীর বাংলামোটরে তিন বছরের ছেলেকে হত্যার অভিযোগে মাদকাসক্ত বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে আটক করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে বাবার হাতে জিম্মি হওয়া অপর ছেলে সুরায়াতকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে ওই বাসায় মাদকাসক্ত বাবা তাঁর দুই শিশুসন্তানকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছেন এমন সংবাদে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিছুক্ষণ পরে র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যেরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। কিন্তু বাসার ভেতরে রামদা নিয়ে অবস্থায় নেওয়ায় পুলিশের পক্ষে নুরুজ্জামানকে ধরতে বেগ পেতে হয়। ভেতর থেকে বাড়িটিতে প্রবেশের গেটে তালা মারা থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান বিলম্বিত হয়। পরে পুলিশ কৌশলের আশ্রয় নেয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-২ এর কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম পরিস্থিতি বুঝতে কৌশলে বাড়িটির ভেতরের একপাশে যান। ফিরে এসে তিনি জানান, একটি টি টেবিলের ওপর বাচ্চাটাকে কাফন পরিয়ে রাখা হয়েছে।

এ সময় তিনি মাদকাসক্ত ওই বাবার কাছে জানতে চান তার সহযোগিতা প্রয়োজন কি না? উত্তরে তিনি বলেন, কাউকে লাগবে না। আমি ১টার দিকে বের হয়ে আজিমপুর গিয়ে ছেলেকে দাফন করবো। আপনাদের কে ডেকেছে? আপনাদের কাউকে লাগবে না।

নুরুজ্জামানের ভাই উজ্জ্বল জানান, তার ভাই মাদকাসক্ত। এই কারণে তার স্ত্রীরা তাকে ছেড়ে গেছেন। দুই স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ছেলে সাফায়াত (৩) ও সুরায়াতকে (৫) নিয়ে বাংলামোটরের ১৬ লিঙ্ক রোডের বাসায় থাকতেন নুরুজ্জামান।

শহিদুল জানান, সকালবেলায় তিনি একজন মৌলভীকে ঘরে ডেকে নিয়ে গেছেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৭টার দিকে নুরুজ্জামান তার আরেক ছেলে সুরায়েতকে কোলে নিয়ে একটি রাম দা হাতে বাসার সামনের রাস্তায় ঘোরাঘুরি করেছেন। তার আগে পাশের মসজিদের মাইকে জানিয়ে দেন তার ছোট ছেলে মারা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের ভেতর থাকা মৌলভীকে কনভিন্স করা হয় যে আপনারা বাইরে বের হয়ে আসেন জানাজার সব ব্যবস্থা করা হবে। মৌলভীর সঙ্গে কথামতো জানাজার ব্যবস্থাও করা হয়। এরপর অপর ছেলে সাফায়াতকে নিয়ে নুরুজ্জামান বের হয়ে আসে। আর ওই মৌলভী মৃত শিশুকে নিয়ে বের হন। এ সময় নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়।

অভিযান শুরুর আগে ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক আবদুস সহিদ বলেন, ‘আমরা বাসার ভেতরে গিয়ে একটা মরদেহ দেখতে পাই। ওই সময় নুরুজ্জামান আমাদের বলেন, আপনারা সরে যান। তা না হলে এই ছেলেকেও কুপিয়ে মেরে ফেলবো।’

অভিযানের বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, ‘বাস্তব অবস্থা মাথায় রেখে আমাদের কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়েছে। যেহেতু আরেক ছেলে জিম্মি ছিলো, তার নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের ভাবতে হয়েছে।’

আবুল হাসান আরও জানান, এর আগে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে নুরুজ্জামান কাজলকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছিলো। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

রমনার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আজিম উদ্দীন বলেন, ‘বাচ্চাটি মারা গেছে, না মেরে ফেলা হয়েছে তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন শেষে জানা যাবে। পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনদের সঙ্গে নুরুজ্জামান বহুদিনের দ্বন্দ্ব ছিলো বলে আমরা জানতে পেরেছি।’