ভোলায় শীতের সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

এম. শরীফ হোসাইন, ভোলা প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
ভোলায় চলতি শীত মৌসুমের সবজি’র লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে আবাদ হওয়ায় এবং আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত বছর ভোলা জেলায় সবজি উৎপাদন হয়েছিলো এক লাখ ১৮ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন। এছাড়া জেলার সাত উপজেলায় সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৬২৯ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে ভোলা জেলায় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি’র উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়।

ভোলা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় অক্টোবরের শেষ দিকে সবজির আবাদ শুরু হয়। প্রকৃতিগতভাবেই এখানে একটু দেরিতে ফলন হয়। কারণ এখানে বছরের শেষ দিকেও বৃষ্টিপাত হয়। ফলে পানি নামতে দেরি ও জমিন শুকাতে সময় লাগে। তবে দেরিতে আবাদ হলেও জমি উর্বর হওয়ায় ফলন ভালো হয়। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে সবজির আবাদ চলবে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশ্যই সবজির ফলন ভালো হবে বলে জানান তারা।

সূত্রে আরো জানা যায়, জেলায় মোট সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে হেক্টর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ মেট্রিক টন করে। আর সবজি চাষ হবে মিষ্টি কুমরা ৮৮০ হেক্টর, লাউ ৬৫০ হেক্টর, শিম এক হাজার ৩৫ হেক্টর, লাল শাক ৬০০ হেক্টর, পালং শাক ৪০০ হেক্টর, ওল কপি ১১৫ হেক্টর, গাজর ৭৫ হেক্টর, মূলা ৬৫০ হেক্টর, বরবটি ৫২৫ হেক্টর, ঢেরশ ৪০৯, ধুন্দল ২০০, টমেটো ৬০০, ফুল কপি ২৫০ ও বাধা কপি ৩৫০ হেক্টর আবাদ করা হবে।

ভোলার সাত উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শীতের সবজিতে ভরে উঠেছে ক্ষেতের পর ক্ষেত। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মূলা, করলা, পটল, পালং, লাল শাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজি। কৃষকের ব্যস্ততা অন্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি। দেখা মিললো কৃষকের সেই উৎসাহ আর ব্যস্ততার চিত্র।

ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের সবজি চাষি জামাল হোসেন, সেলিম ও মনছুর বলেন, তারা প্রত্যেকে এবছর প্রায় এক একর জমিতে ফুল কপি, পালং শাক, ও লাল শাক চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে চার বার সবজি বিক্রি করেছেন। এখন পর্যন্ত সবজির বাজার দর ভালো থাকায় তাদের লাভ ভালো হচ্ছে। আরো দুই থেকে তিন বার এখান থেকে সবজি বিক্রি করতে পারবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

চরফ্যাশন উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের কৃষক বাবুল মিয়া ও মোজাম্মেল বলেন, আগামজাতের সবজির ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে সংসার খরচ চালাতে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। বাজারে বিক্রির পাশাপাশি পরিবারের চাহিদা মেটানো যায়।

লালমোহন উপজেলার চরউমেদ ইউনিয়নের চাষি শাহে আলম হাওলাদার বলেন, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে সবজির চাষ করছেন। এবছর দেড় একর জমিতে লাউ, শিম, ফুলকপি’র চাষ করেছেন। এবারের মত ভালো দাম কোনো বছর পাননি। এখন পর্যন্ত তার এক লাখ টাকার বেশি লাভ হয়েছে।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, শীতকালীন সবজির জন্য প্রচুর ডিএপই সার প্রয়োজন হয়। আমাদের কাছে তার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কাজেই কৃষকদের কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, সবজি আবাদের পর কাটুই পোকা নামে রোগের আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ রোগ প্রতিহত করার জন্য কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ সেবা দেয়া হচ্ছে। যদি আর বৃষ্টিপাত না হয় তবে এখানে শীতকালীন সবজির ভালো ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।