পাঁচ বছরে কোটিপতি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দেয়ার হলফনামার সূত্র মতে, গত পাঁচ বছরে নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমায় শুন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। তিনি ১৭-লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় অস্থাবর সম্পদে নগদ ও ব্যাংকে জমা শুন্য উল্লেখ করলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ব্যাংকে জমা ও নগদ অর্থ মিলে নিজ নামে রয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

দাখিল করা হলফনামায় প্রকাশ, বি.কম পাশ নুরুজ্জামান আহমেদ সাংসদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী, কৃষি ও মৎস চাষী। অস্থাবর সম্পদের তালিকায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নগদ ও ব্যাংকে জমার পরিমান কিছু নাই বলে উল্লেখ করলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নগদ অর্থের পরিমান দেখিয়েছেন এক কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ২১০ টাকা ও ব্যাংকে জমা রয়েছে এক কোটি চার লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৩.০১ টাকা। বিগত পাঁচ বছরে তার গচ্ছিত অর্থ দেখিয়েছেন দুই কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৩টাকা।

দশম সংসদ নির্বাচনকালীন সময় তার নিজ নামে কোনো গাড়ি না থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর ফ্রি একটি গাড়ি রয়েছে তার। তবে ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাবপত্রে কোনো পরিবর্তন নেই গত পাঁচ বছরে। শুধু অলংকারা দিতে দশম সংসদে ছিলো ৩২ হাজার টাকা মূল্যের একাদশে লিখেছেন ২৫ তোলা।

আয়ের উৎস একই হলেও দশম সংসদ নির্বাচনের চেয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বহু গুনে বেড়েছে তার আয়। তার আয়ের বড় অংশ মৎস চাষ থেকে একাদশ নির্বাচনের হলফনামায় ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬০ টাকা, কৃষিখাতে ৯২ হাজার ৪০০, বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে ৯২ হাজার টাকা, তামাকের ব্যবসা ও সঞ্চয়ী সুদে সাত লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৫ টাকা, সম্মানী ভাতায় ১১ লাখ চার হাজার টাকা। তবে দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি হলফনামায় মাত্র ছয় লাখ ২০ হাজার টাকার হিসাব দাখিল করেন।

স্থাবর সম্পদের বর্ণনায় কৃষি জমির পরিমাণ একই হলেও বেড়েছে মৎস চাষের জমি। দশম সংসদ নির্বাচনে মৎস চাষের খামাড়ের মূল্য ৭০ হাজার উল্লেখ করলেও একাদশে উল্লেখ করেছেন ২৫ বিঘা। গ্রামে দালান, আবাসিক ভবন না বাড়লেও রাজধানী ঢাকায় মাত্র ৩০ লাখ টাকায় রাজউকে একটি প্লট বাড়ি কিনেছেন তিনি।

ফৌজদারী মামলা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ছিলো না একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তার নামে কোনো মামলা নেই। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ থাকলেও একাদশে কোনো দেনা নেই বলে উল্লেখ করেছেন নৌকার প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ সাংসদ।