কুষ্টিয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগ ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত দুই হাজার শিশু

শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
শীতের শুরুতেই হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগ ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে দুই হাজার শিশু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এখনো ভর্তি আছে প্রায় দুই শতাধিক শিশু। আবাসন নেই, সময়মত চিকিৎসক পাওয়া যায় না, ডাকলে নার্সরা আসেন না। নেই স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এমন নানা অভিযোগ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগীর অভিভাবকদের।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, নবনিতা বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। গত চার দিন আগে জ্বর-সর্দি-কাশিসহ ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে কুষ্টিয়া হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। তার মত গত এক সপ্তাহে এখানে শ্বাসকষ্ট ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই হাজার শিশু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এখনো ভর্তি আছে ২০০ এর অধিক। ওয়ার্ডের ভেতর জায়গা নেই, পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর রিপোর্ট দেখাতে চিকিৎসকের দেখা মেলে না। জোর করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমন অভিযোগ এসব রোগীর অভিভাবকদের।

অভিভাবকরা জানান, এখানে ভর্তির পর সারাদিন-সারারাত গেলেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া দুস্কর। মুমূর্ষ সন্তানকে নিয়ে মায়ের কষ্টের সীমা নেই। অধিকাংশ সময় নার্সরা ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। ওয়ার্ডে একটি মাত্র টয়েলট তাও ব্যবহারের অনুপোযোগী। ওষধু কিনতে হয় বাইরে থেকে।

তবে ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের দাবি শীতের শুরুতে এবং শেষে এমন ব্রংকলাইটিস বা ঠান্ডাজনিত রোগ হয়। সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি নেই।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকার জানান, শুধু কুষ্টিয়া নয়, সারাদেশে এ রোগ দেখা দেয় এ সময়। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড মাত্র ২০টি। প্রতিদিন এখানে এখন ভর্তি হচ্ছে দেড়শরও অধিক। লোকবলের স্বল্পতায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর শীতের শুরুতে এবং শেষে কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে ঠান্ডাজনিত রোগ ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয় কয়েক হাজার শিশু। কিন্তু সে অনুপাতে সরকারিভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। এতে অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। আবার কেউ জন্মের পর এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে আজীবন এরোগ বহন করে থাকে। তাই এ সময়ে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন এখানকার সচেতন মহল।