মুক্তি পেলেন আসিয়া বিবি, তীব্র প্রতিক্রিয়া কট্টরপন্থিদের

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২০১০ সালে প্রথম নারী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসিয়া বিবি মুক্তি পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার মুলতান শহরের জেল থেকে আসিয়াকে মু্ক্তি দেয়া হয়। খবর বিবিসির

গত মাসের শেষ দিকে আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ডের রায় বদলে তাকে খালাস দিয়েছিলো পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। এ রায়ের পরেই বিক্ষোভে নামেন পাক কট্টরপন্থীরা। তাতে নেতৃত্ব দেয় ইমরানের জোট সরকারের সঙ্গী তেহরিক ই লাবাইক। বিচারপতি, আইনজীবী ও আসিয়ার ফাঁসির দাবিতে তাদের আন্দোলনে অচল হয়ে গিয়েছিলো পাকিস্তান।

আসিয়ার মুক্তির খবরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যেই ইমরানের জোটসঙ্গী তেহরিক ই লাবাইকের তরফে জানানো হয়েছে, আসিফাকে মুক্তি দিয়ে চুক্তিভঙ্গ করেছে পাক সরকার। এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেই শক্তি প্রদর্শন করা হবে।

বিবিসি জানায়, ৪৭ বছর বয়সী খামার শ্রমিক আসিয়া তিন সন্তানের জননী। ২০০৯ সালে খামারে কাজ করার সময় এক গরমের দিনে মুসলিম শ্রমিকদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে পানি পান করেন। আর এ কারণে মুসলিম সহকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

তারা দাবি করেন, আসিয়া যেহেতু মুসলিম নন, সেক্ষেত্রে গ্লাসটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে, সেটি আর ব্যবহার করা যাবে না। এ কারণে আসিয়াকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার দাবি জানান তারা। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন আসিয়া। সে সময় তাদের মাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

পরে মুসলিম শ্রমিকরা দাবি করেন, আসিয়া বিবি নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তবে আসিয়া বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের কথা স্বীকার করলেও; তিনি দাবি করেন ধর্ম অবমাননাকর কিছু বলেননি।

২০১০ সালে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনে দেশটির প্রথম নারী হিসেবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এমনকি পাকিস্তানেও তার পক্ষে দাঁড়ান অনেকে। তবে এদের মধ্যে অন্তত দুই জনকে তাদের অবস্থানের কারণে প্রাণ দিতে হয়।