জয়পুরহাটে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের আটজনের মৃত্যু

জয়পুরহাট সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
জয়পুরহাটে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে এক পরিবারের আট সদস্যের সবার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১০টার দিকে জয়পুরহাট শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের কাছে শহরের আরামনগর এলাকায় দুলাল হোসেনের আধা পাকা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট ফায়ার স্টেশনের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম।

নিহতরা হলেন- আরমনগর মহল্লার ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিন (৩৭), তার বাবা দুলাল হোসেন, মা মোমেনা বেগম (৬৫), স্ত্রী পরিনা বেগম, তিন মেয়ে হাসি, খুশি ও জেএসসি পরীক্ষার্থী বৃষ্টি এবং এক বছরের ছেলে আব্দুর নূর। এদের মধ্যে প্রথমে মারা যান মোমিন, মোমেনা ও বৃষ্টি।

দুলাল হোসেনের ভাই জাকির হোসেন ও পরিবারের স্বজনেরা আজ সকালে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মো. রশিদুল হাসান জানান, তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন, ওই পরিবারের সাতজন মারা গেছেন। রাতেই তিনজন মারা যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতেই মারা যান আবদুল মুমিন (৩৭), তাঁর মা মোমেনা বেগম (৫২) ও বড় মেয়ে বৃষ্টি বেগম (১৪)। ওই রাতেই দগ্ধ হন মুমিনের বাবা দুলাল হোসেন (৫৮) ও স্ত্রী পরিনা বেগম (৩২), যমজ দুই মেয়ে হাসি ও খুশি (১২) ও এক বছরের শিশুপুত্র তাইমুল ইসলাম। রাতেই তাঁদের জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স করে তাঁদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে মুমিনের স্ত্রী পরিনা বেগম, মেয়ে হাসি, খুশি ও শিশু তাইমুল মারা যায়। মুমিনের বাবা দুলাল হোসেনকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে তিনি মারা গেছেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল হোসেন জানিয়েছিলেন, রাত ৯টার দিকে বাড়ির প্রধান ফটকে তালা দিয়ে সবাই শুয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ রাত ১০টার দিকে বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তখন বাইরের লোক এসে কয়েকজনকে উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী সেলিম হোসেন বলেন, তাঁরা ওই বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন। তখন বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় জানালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করান। তিনজন বাড়িতেই মারা যান। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে আগুন নেভায়।

জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাঁদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।

জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম জানান, রাতেই দগ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা হাসপাতালেই দেয়া হয়েছে। দগ্ধ পাঁচজনের শরীরে শতকরা ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ পুড়ে গিয়েছিলো। তাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিলেন।

রাতেই জয়পুরহাট জেলার ২ নম্বর আসনের সাংসদ আবু সাইদ আল মাহমুদ, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাকির হোসেন ও পুলিশ সুপার রশিদুল হাসান হাসপাতালে যান এবং তাঁদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।