জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন সিইসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
জাতীর উদ্দেশে ভাষণ দিতে শুরু করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। এই ভাষণ থেকেই তিনি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। আজ বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় এই ভাষণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে এই ভাষণ সম্প্রচার করছে। বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওগুলো বাংলাদেশ টেলিভিশন হতে ফিড নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ প্রচার করছে।

এর আগে গত রোববার (৪ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কমিশন সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও সিইসি’র জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার তারিখ ঠিক করা হয়। ওই দিন কমিশন সভা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদ সম্মেলনে ইসি কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন বলেন, আমরা ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওইদিন বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করবেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভাষণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ও মাঠ পর্যায়ে সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ধারণা দিতে পারেন সিইসি নুরুল হুদা। ভাষণে সব নাগরিককে সহযোগিতার আহ্বান জানাবেন সিইসি। জনগণের হয়ে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতন্ত্রের ধারা এবং উন্নয়নের গতিকে সচল রাখার আহ্বানও জানাবেন তিনি।

কমিশনের একটি সূত্র জানায়, সিইসি তার ভাষণে নির্বাচনী আইন ও বিধি সংশোধন, সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ পরবর্তী সংসদীয় আসনের তালিকা প্রকাশ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, চূড়ান্ত হওয়া ভোটকেন্দ্র, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন নিষ্পত্তি, প্রথমবারের মত পোলিং এজন্টদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারেন।

নির্বাচনের নানা বিষয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরে মতানৈক্যের অবসান না ঘটার মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করছেন সিইসি।

বিএনপির ভোট বর্জনের মধ্যে গঠিত দশম সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি, সেই সংসদের মেয়াদ আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে।

২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা অনুসারেই তফসিল ঘোষণা করছে নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি।

অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে আসছেন সিইসি। তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে মতবিভেদ কাটাতে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে সংলাপ হলেও তাতে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে, সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইছে। অন্যদিকে সংবিধানের বাইরে কোনোভাবেই যেতে নারাজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দুই দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ফের আলোচনার আশা রেখে তফসিল পেছানোর আহ্বান ছিল ঐক্যফ্রন্টের; কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণার পথেই হাঁটে ইসি।

তফসিল ঘোষণা পেছানোর ‘উপায় নেই’ বললেও সিইসি নূরুল হুদা তিন দিন আগে বলেছিলেন, সব দল চাইলে সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থেকে কমিশন ভোটগ্রহণের সময়সূচি কয়েকদিন পেছানোর কথা ভাবতে পারে।

৩০০টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে এবার ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার। এরমধ্যে পুরুষ পাঁচ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী পাঁচ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্র ৪০ হাজার ১৯৯টি। এতে ভোট কক্ষ থাকবে দুই লাখ ছয় হাজারেরও বেশি। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে পাঁচটি করে ভোট কক্ষ থাকে। ভোটের অন্তত ১৫দিন আগে কেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।

বাংলাদেশে প্রথম থেকে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাক্রমে- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ সালের ৭ মে, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি।