উত্তরখানে আগুনে দগ্ধ আরো দু’জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
চার দিন আগে রাজধানীর উত্তরখানে গ্যাসের চুলা থেকে লাগা আগুনে দগ্ধ আরো দুইজন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো পাঁচ জনে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আফরোজা আক্তার পূর্ণিমা (৩০) মঙ্গলবার রাতে মারা যান। আর তার চাচাতো বোনের স্বামী ডাবলু মোল্লার (৩৩) মৃত্যু হয় বুধবার সকাল ৮টার দিকে। পূর্ণিমার শরীরের ৮০ শতাংশ এবং ডাবলুর ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিলো বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

গত ১৩ অক্টোবর ভোরের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ নিয়ে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো। ওই ঘটনায় দগ্ধ আরো তিনজন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।

উত্তরখানের ব্যাপারীপাড়ার তিনতলা ওই ভবনের নিচতলায় পাইপ লাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস জমে গিয়েছিলো। সেদিন ভোর ৪টার দিকে রান্নাঘরের চুলা জ্বালতে গেলে পুরো ঘরে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আটজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন সকালেই মো. আজিজুল ইসলাম (২৭) নামে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর সন্ধ্যায় মারা যান তার স্ত্রী মুসলিমা বেগম (২০)। আজিজুলের ফুফু সুফিয়া বেগম মারা যান রোববার। এরপর মঙ্গলবার রাতে সুফিয়ার মেয়ে পূর্ণিমা এবং বুধবার সকালে আজিজুলের বোন আঞ্জু আরার স্বামী ডাবলু মোল্লাও মারা গেলেন।

এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, পূর্ণিমার ছেলে সাগর (১২), আজিজুলের বোন আঞ্জু আরা (২৫), এবং তার ছেলে আব্দুল্লাহ সৌরভ (৫) ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাগরের শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। বাকি দুজনের অবস্থা কিছুটা ভালো বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এই পরিবারের সদস্যরা গত মাসে ওই বাসার নিচতলায় ওঠেন। সেখানে তিনটি কক্ষে তারা থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুরায়। মুসলিমা ও পূর্ণিমা উত্তরখানের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। আজিজুল একটি মাছের খামারে কাজ করতেন এবং ডাবলু অটোরিকশা চালাতেন। ডাবলুর ছেলে আব্দুল্লাহ ময়নারটেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছিলো।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.