সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধনে আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবি

ছবি: নাছির উদ্দিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৯টি ধারা সংশোধনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে সংবাদপত্রের সম্পাদকের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অনুযায়ী আজ সোমবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এই মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তুলে ধরেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম।

মানববন্ধনে মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ার আগ থেকেই এ আইনটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করে আসা হচ্ছিলো। তাঁরা মনে করেন এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিপন্থী। সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নয়। পরিষদ আইনের বিশেষ কতগুলো ধারা সংশোধনের দাবি করছে। বর্তমান আইনটি শুধু সাইবার জগৎ নয় স্বাধীন গণমাধ্যমেরও কণ্ঠরোধ করবে। তাঁরা চান আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হবে।’

মানববন্ধনে মাহ্‌ফুজ আনাম তাঁদের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮,২১, ২৫,২৮, ২৯,৩১, ৩২,৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।

২. এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনেই আনতে হবে।

৩. পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যেতে পারে, তবে কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত সেই বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।

৪. কোনো সংবাদমাধ্যমের কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।

৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতা দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে। সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।

৬. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করতে হবে। ওই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পরে।

৭. এই সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। এই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যকভাবে করতে হবে।

মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা আশা করবো আমাদের এই দাবি সরকার গ্রহণ করবেন এবং সংসদের শেষ অধিবেশনে যথাযথ সংশোধনী এতে এই আইনটি সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করবে। বিভিন্ন মন্ত্রী বলেছেন আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। আমরাও মনে করি না আলোচনার দরজা বন্ধ। আলোচনার নামে প্রহসন যেন না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনায় গিয়েছি, আমরা অত্যন্ত বিশ্বাস নিয়ে গিয়েছি। কিন্তু সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন এখনো হয়নি। তাঁরা (মন্ত্রীরা) বলেছেন, আলোচনার দরজা খোলা, শুনে আমরা খুশি, আমরা আলোচনা করতে চাই, তবে গ্রহণযোগ্য আলোচনা চাই। যে আলোচনা গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে। শুধু আলোচনার জন্য আলোচনা নয়।’

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা অংশ নেন। মানববন্ধনে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন- মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এইজের সম্পাদক নুরুল কবির, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মনিরুজ্জামান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, করতোয়ার সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইন্ডিপেনডেন্টের সম্পাদক এম শামসুর রহমান প্রমুখ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.