ভারতের উড়িষ্যা-অন্ধ্র প্রদেশে তিতলির তাণ্ডব, নিহত ২

নিউজ ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‌‘তিতলি’ ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশে আঘাত হেনেছে। এই আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে উড়িষ্যার গোপালপুর। ধসে পড়েছে অসংখ্য মাটির বাড়ি। এখন পর্যন্ত তিতলির আঘাতে দুইজন নিহত  হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর এনডিটিভির

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উড়িষ্যার গঞ্জাম জেলার গোপালপুরে প্রথম আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। উড়িষ্যার গোপালপুরে আঘাত হানার সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ১০২ কিলোমিটার। আর অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলামে এই গতিবেগ ছিরো ঘণ্টায় ১৪০- ১৬০ কিলোমিটার।

এর আগে রাজ্য দুটিতে প্রায় তিন লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউ হতাহত হয়নি। ওডিশা থেকে দুর্বল হয়ে তিতলি বাংলাদেশের দিকে আসবে।

তিতলির আঘাতে ভারতে গাছ উপড়ে পড়ে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ছে। ট্রেন ও বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিতে বন্যার আশঙ্কায় উড়িষ্যার প্রতিটি জেলায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। মুখ্য সচিব এ পি পাধি জানিয়েছেন, দুর্যোগে একজনেরও যেন প্রাণহানি না হয়, তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, তিতলির প্রভাবে উপকূলীয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হবে। কাল শুক্রবারও এর প্রভাবে বৃষ্টি হবে। চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে ৪ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএন আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার বেগে তিতলি বয়ে চলেছে। ওডিশার বিভিন্ন এলাকায় গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চল বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রেল চলাচল করছে না। অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিধস হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নাভিন পাটনায়েক ঘূর্ণিঝড় তিতলিকবলিত এলাকাগুলোর কালেক্টরদের দ্রুত আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.