মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবি: শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে চলমান অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা। আজ সোমবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান আন্দোলনকারীদের মধ্যে উপস্থিত হয়ে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। আগামী ১৪ অক্টোবর (রোববার) সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ ব্যানারের এই আন্দোলনের নেতৃত্ব মন্ত্রী শাহজাহান খানের হাতে তুলে দেন মঞ্চের আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এরপর শাহজাহান খানের উপস্থিতিতেই ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’র নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চ’ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।

নতুন এই প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়্যারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খানকে; সদস্য সচিব করা হয়েছে পরিবহন শ্রমিক নেতা ওসমান আলীকে। নতুন দুই নেতা চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। তাদের দাবি কিভাবে মানা যায়, সেই বিষয়ে নিজে উদ্যোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান।

সদ্য বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক অধ্যাপক জামাল বলেন, আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে যারা একাত্মতা জানাতে এসেছেন, তাদের হাতে আমরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব তুলে দিলাম৷ তাদের নেতৃত্বে আমরা আমাদের দাবি আদায় করবো৷ তরুণ প্রজম্মের আন্দোলন এখন মুক্তিযু্দ্ধ চেতনা মঞ্চের হাতে দেয়া হয়েছে।

সদ্য গঠিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চের সদস্য সচিব ওসমান আলী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আমরা সারা বাংলাদেশে আন্দোলন গড়ে তুলবো। আজকে আমরা ঐক্যের জন্য শাহজাহান খানের নেতৃত্বে এখানে এসে একাত্মতা ঘোষণা করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো৷ আমরা দাবি না আদায় করে ঘরে ফিরবো না।

আন্দোলনকারীদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে শাহজাহান খান বলেন, কয়েকদিন যাবৎ আমাদের সন্তানেরা কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করছে৷ তাদের দাবিকে কিভাবে ধীরে ধীরে সফল করা যায়, তা নিয়ে আমরা বসেছি৷ কীভাবে রাজাকারের সন্তানদের নির্মূল করতে পারি, তা নিয়ে আমরা বসেছি৷ বাংলার মাটিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরই ঠাঁই হবে৷ প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ভালবাসেন৷ এমন আন্দোলন করতে হবে, যে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজাকারের বাচ্চাদের এদেশ থেকে নির্মূল করা যায়।

নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য বলেন, তারা বলে জামাতের সাথে তারা নাকি আঁতাত করে না, আসলে তারা তাদের ঝুলির মধ্যে জামাতকে রেখে দিয়ে নাশকতা করতে চায়৷ আমাদের সকল নাশকতাকে রুখে দিতে হবে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গঠিত কমিটির সুপারিশ মেনে মন্ত্রিসভা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গত ৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ গঠন করে শাহবাগে অবরোধ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা আগের মতোই মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ বহালের দাবি জানায়। তাদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের এক শতাংশ কোটা এবং নৃ-গোষ্ঠীর ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবিতেও শাহবাগে কর্মসূচি পালন করে প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী সংগঠনগুলো। তাদের অবস্থানের কারণে শাহবাগে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার সেখানে উপস্থিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচির আপাত ইতি টানেন শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শাহজাহান খান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.