ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আমরা মানি না: ফখরুল

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকের এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আমরা মানি না। আমরা এই সরকারের কোনো আইন মানি না।’

আজ সোমবার ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর মধ্য দিয়ে আইনটি কার্যকর হলো।

সোমবার দুপুরে আলোচিত এই আইন নিয়ে বিএনপি গুলশানে লেইক শোর হোটেলে এক মতবিনিময় সভা করে, তাতে স্বাগত বক্তব্য দিতে গিয়ে ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এই সরকারের কোনো আইন মানি না। কারণ যে সংসদে আইন পাস হয়, সেই সংসদের কোনো বৈধতা নেই। এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, অবৈধ একটা সংসদ। এই ডিজিটাল আইন আরো কালো। এই আইনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই সরকারকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘এখনো সময় আছে, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। তিনিই পারেন আপনাদের এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দিতে। এছাড়া কোনো উপায় নেই আপনাদের।’

সম্পাদক পরিষদকে আশ্বস্ত করার পরেও আইনটি করার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে ‘প্রতারক’ আখ্যায়িত করে ফখরুল ফখরুল বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই এডিটরদের সঙ্গে বসে কথা দিলেন যে, আইনের যে ধারাগুলো আছে আপত্তি বিষয়ক, তা আমরা আলোচনা করে পুনঃবিবেচনা করার চেষ্টা করবো। উনি (প্রধানমন্ত্রী) তো বিদেশ থেকে এসে বলে ফেললেন- না না, যেটা আছে ঠিক আছে, যারা মিথ্যা কথা বলে তাদের জন্য।’

ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে জিম্মি করে, বন্দী করে, তাদের বুকের মধ্যে বন্দুক-পিস্তল রেখে দিয়ে দেশ শাসন কিছুদিনের জন্য করা যায়, সবসময়ের জন্য করা যায় না। হতাশ হবেন না। আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত, জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, দেশনেত্রী মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত।’

জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেছি। আজকে প্রতিটি কর্নার থেকে আওয়াজ আসছে-সবাই রুখে দাঁড়ান, এই যে জগদ্দল পাথর সরান।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে যেভাবে ঢালাওভাবে ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে, এটা পরিষ্কার যে এখানে সরকার একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটাই মূল কথা। এর চেয়ে কালো আইন কী হতে পারে? আমি মনে করি, এটা বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের নিরাপত্তার জন্য এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন করা হয়েছেই মুখ বন্ধ করার জন্য। আমি বলতে চাই, এর পরিণতি শুভ হবে না।’

সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে কথা বলাটা বিপদ। কথা বললে সত্য প্রকাশ হয়ে যাবে। সরকার চায় না মানুষ কথা বলুক। পৃথিবীর সব দেশে রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করা হয়। কিন্তু আমাদের সরকার এটাও চায় না, কারণ তাদের এতো গন্ধ যে কথা বললে আরো গন্ধ ছড়াবে।’

সাপ্তাহিক হলিডের সম্পাদক সৈয়দ কামালউদ্দিন বলেন, ‘এই আইনটি করা হয়েছেন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। যাতে সরকারি দলের প্রতিপক্ষদের আরো বেশি করে ঘায়েল করা যায়, হয়রানি করা হয়। আমি মনে করি এই আইন স্বাধীন সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।’

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘যখন সরকার ৫৭ ধারায় নির্যাতন-অত্যাচার করে যখন দেখল কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, তখনই এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করা হলো। এর মাধ্যমে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকেই শুধু নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি, গোটা দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনয়ন, আফগানিস্তান, প্যালেস্টাইন, রাশিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.