ক্যাভানোর নিয়োগের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ, আটক তিন শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হিসাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত ব্রেট ক্যাভানোর নিয়োগের বিরুদ্ধে দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ করেছেন জনতা। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ তিন শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা ক্যাভানোর নিয়োগ নিয়ে আজ শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ভোট হওয়া কথা রয়েছে। ভোটে প্রেসিডেন্ট মনোনীত এ প্রার্থীর পক্ষেই রায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫৩ বছর বয়সী ক্যাভানোর নিয়োগ যতোই ঘনিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদের মাত্রা ততোই বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

রাজধানী ওয়াশিংটনে হওয়া বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে নারীদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। হাজার হাজার আন্দোলনকারী ক্যাভানোর এখনকার কর্মস্থল আপিল আদালতের বাইরে থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের বাইরের প্রাঙ্গনে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ অগ্রসর হয় ক্যাপিটল হিলের দিকে। এ সময় তারা ‘ক্যাভানোকে চলে যেতে হবে’ বলে স্লোগানও দেয়।

বিক্ষোভকারীরা পরে সিনেটের একটি দাপ্তরিক ভবনের বাইরে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বললেও, তারা রাজি না হওয়ায় শুরু হয় ধরপাকড়। পুলিশ কমেডি অভিনেতা এমি শুমার ও ফ্যাশন মডেল এমিলি রাতাজকোওস্কিসহ ৩০২ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, ক্যাভানোকে নয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকারী নারী অধ্যাপককেই বিশ্বাস করছেন তারা।

আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা অনেক ব্যানারে ‘ক্যাভা-নোপ’ লেখাও দেখা গেছে। ওয়াশিংটনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনেও ক্যাভানোবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ট্রাম্প মনোনীত এ বিচারকের বিরুদ্ধে ৩৬ বছর আগে করা যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন এক নারী অধ্যাপক।

ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টিন ব্ল্যাসি ফোর্ডের ওই অভিযোগের পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক; ক্যাভানোর নিয়োগ নিয়েও দেখা দেয় জটিলতা। নিয়োগ সংক্রান্ত সিনেট কমিটির ভোটে উৎরে গেলেও ক্যাভানোর যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করতে এফবিআইকে নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

বুধবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হোয়াইট হাউস ও সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। ক্যাভানো তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই জোরালভাবে অস্বীকার করেছেন।

রিপাবলিকানরা বলছে, এফবিআইয়ের ওই প্রতিবেদনে ক্যাভানোকে যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা তদন্তে মাত্র পাঁচ দিন সময় বেঁধে দেয়ার সমালোচনা করছে।

সুপ্রিম কোর্টের নবম বিচারপতি হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ পেতে হলে সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির অনুমোদনসহ গোটা সিনেটেরই অনুমোদন লাগবে ক্যাভানোর। দোদুল্যমান হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান সিনেটররা বৃহস্পতিবার ভোটে ক্যাভানোকে সমর্থন জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। যে কারণে আপিল বিভাগের এ বিচারকের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে গত ৩১ জুলাইয়ে বিচারপতি এন্থনি কেনেডি অবসরে যাওয়ার পর তার শূন্য পদের জন্য ব্রেট ক্যাভানোকে বেছে নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.