সিনহার অ্যাকাউন্টে লেনদেনে ‘জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে’ দুদক

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
ফারমার্স ব্যাংক থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকা লেনদেনের ঘটনায় জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বৃহস্পতিবার দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘ফারমার্স ব্যাংকের দুটি একাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ফারমার্স ব্যাংকের দুইটি একাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণের ব্যাপারে আমরা তদন্ত করেছি। তদন্ত শেষ হয়ে গেছে। অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বা চিহ্নিত করা হয়েছে। ঋণ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করছি।’

তদন্তে পাওয়া বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুটি একাউন্ট থেকে ঋণ প্রক্রিয়া এবং এই টাকা মানি লন্ডারিং বা বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া, নগদ উত্তোলন এসব বিষয়ে অনেক কিছু এসেছে।’

ঋণ অনিয়মের সঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি জড়িত কি না- এ প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকুক, আর যেই থাকুক। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বা যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘যা হয়, তাই হবে। যদি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে।’

ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামে দুই কথিত ব্যবসায়ী অবৈধভাবে চার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিলেন। সেই টাকা অন্য আরেক ব্যবসায়ী হয়ে এস কে সিনহার বাড়ি বিক্রি বাবদ তার ব্যাংক হিসাবে ঢুকেছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তার তদন্তে নামে দুদক।

দুদক প্রথম থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ আড়ালে বিচারপতি সিনহার নাম উহ্য রাখলেও দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কথিত দুই ব্যবসায়ীর আইনজীবী বিচারপতি সিনহার সঙ্গে লেনদেনের কথাই বলেন।

ক্ষমতাসীনদের রোষের মুখে এক বছর আগে বিদেশে গিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেওয়া বিচারপতি সিনহার লেখা বই সম্প্রতি প্রকাশ হওয়ার পর তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই তাকে দুদকের তদন্তের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.