সরকারি চাকরিতে প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির কোটা বাতিল

ছবি: পিআইডি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (৩ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে কোটা পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা থাকবে না। তিনি বলে, কমিটির রিপোর্ট মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। তিনটি সুপারিশ ছিলো। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, কোটা বাতিল এবং কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর বিষয়ে যথাপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

মন্ত্রিসভা সচিব কমিটির তিনটি সুপারিশই অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে শফিউল বলেন, যদি কখনো অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে সরকার তা করতে পারবে।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা বহাল আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আজ-কালের মধ্যে আমরা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে (প্রজ্ঞাপন) হয়ে যাবে।

কোটা সংস্কার-সংক্রান্ত সচিব কমিটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোটা সংস্কারের সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনের জন্য পাঠায়।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৫ শতাংশ কোটা রয়েছে। বাকি ৪৫ শতাংশ নেওয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। কোটা ৫৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথা বাতিল, সংরক্ষণ বা সংস্কারের জন্য সাত সদস্যের সচিব কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির দেয়া সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রিসভা আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.