সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইন সরানো শুরু দুই কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যেকার বিরোধ মিটিয়ে সুসম্পর্ক স্থাপনে অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইন সরানো শুরু করেছেন দুই দেশের সেনাসদস্যরা। ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার পানমুনজম গ্রাম থেকে মাইন সরানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। দুই দেশের সীমান্তে আট লাখেরও বেশি মাইন পোঁতা আছে।

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গত মাসে উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে দেশটির নেতা কিম জং-উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের মধ্যে এক বৈঠকে সীমান্ত এলাকা থেকে মাইন সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোরিয়া যুদ্ধে যে স্থানে শত শত সেনা নিহত হয়েছিলো, সেখান থেকেও মাইন সরানো হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, জেএসএ এলাকায় যতো মাইন আছে, তা ২০ দিনের মধ্যে সেনাসদস্যরা সরিয়ে নেবেন। সেনাদের মুখোমুখি অবস্থানের ভেতর জেএসএ হচ্ছে একমাত্র সেনামুক্ত এলাকা।

বিবৃতিতে জানানো হয়, মাইন সরানোর পর তল্লাশি চৌকি ও অস্ত্র সরানো হবে। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমানোর অংশ হিসেবে সেখানে অস্ত্র ছাড়া সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছিলো, দুই কোরিয়ার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমাতে সীমান্তে লাউড স্পিকারের মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধ করেছে তারা। লাউড স্পিকারগুলো এখন নামিয়ে ফেলা হচ্ছে।

ডিএমজেড হচ্ছে কোরীয় উপদ্বীপে ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও চার কিলোমিটার চওড়া এক প্রস্থ এলাকা। পুরো এলাকায় ভারী মাইন পোঁতা হয়েছে। এছাড়া মজবুত কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। নজরদারি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক তারের বেড়াও রয়েছে পুরো সীমান্তজুড়ে। দুই দেশের পক্ষে বিপুল পরিমাণ সৈন্য সেখানে প্রহরায় থাকে।

১৯৫৩ সালে কোরিয়া যুদ্ধ শেষ হলেও উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বজায় ছিলো। গত কয়েক মাসে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের সমঝোতাকে কেন্দ্র করে গত মাসে দুই নেতা পিয়ংইয়ংয়ে বৈঠকে বসেন। কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে কিম জং-উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে গত জুনে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের পর এই বৈঠক হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.