‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হলেন পিরোজপুরের মেয়ে ঐশী

বিনোদন ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
ত্রিশ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এবারের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়েছেন বরিশাল বিভাগের পিরোজপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। গতকাল রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টায় রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে গ্র্যান্ড ফাইনালে তার মাথায় ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ মুকুট পরিয়ে দেয়া হয়। এই প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছেন নিশাত নাওয়ার সালওয়া এবং দ্বিতীয় রানার আপ হন নাজিবা বুশরা। আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে চীনে অনুষ্ঠেয় ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার মূল আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর আয়োজক অন্তর শোবিজ জানায়, এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ ১০ প্রতিযোগী ছিলেন। তারা হলেন- নিশাত নাওয়ার সালওয়া, মনজিরা বাশার, ইশরাত জাহান সাবরিন, স্মিতা টুম্পা বাড়ৈ, আফরিন সুলতানা লাবণী, সুমনা নাথ অনন্যা, নাজিবা বুশরা, জান্নাতুল মাওয়া, শিরীন শিলা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

এবার মূল তিনটি খেতাবের বাইরে আরো বেশ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। ‘মিস ট্রেন্ডি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন স্মিতা টুম্পা বাড়ৈ, ‘বিহেভিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন আফরিন সুলতানা লাবণী, ‘মিস ইন্টিলিজেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন নিশাত নাওয়ার সালওয়া, ‘বেস্ট ফ্যাশন রানওয়ে অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন মনজিরা বাশার, ‘মিস স্মাইলি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন সুমনা নাথ অনন্যা, ‘মিস ফটোজেনিক অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন জান্নাতুল মাওয়া, ‘মিস ট্যালেন্টেড অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন নাজিবা বুশরা, ‘মিস পারসোনালিটি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন শিরীন শিলা, ‘মিস স্পোর্টি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন ইশরাত জাহান সাবরিন ও ‘বেস্ট এপিয়ারেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

এবারের আসরে মূল বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, মডেল ও অভিনেত্রী তারিন, মডেল ও অভিনেতা খালেদ সুজন, মডেল ইমি এবং ব্যারিস্টার ফারাবি। ফাইনালের আইকন বিচারক হিসেবে ছিলেন মাইলসের শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ ও আনিসুল ইসলাম হিরু। এ তিনজন তিন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ডিজে সনিকা, আরজে নিরব ও আজরা মাহমুদ।

ঢাকার মেয়ে নাজিবার চোখে প্রতিযোগিতার সবচেয়ে যোগ্য প্রতিযোগীই এবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায়।

আয়োজকরা জানান, এবার মূল পর্বের আগে প্রায় তিন মাস সময় পাওয়া যাবে। ফলে চূড়ান্ত বিজয়ীকে তৈরি করার সময় পাওয়া যাবে বেশি। বিশ্বখ্যাত গ্রুমার নয়নিকা চ্যাটার্জী তাকে তৈরি করাবেন। তার হাতেই ১৯৯৬ থেকে একাধিক প্রতিযোগী বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতেছেন।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজদর্শনে ডিজে সনিকা ও আরজে নীরবের উপস্থাপনায় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের গ্র্যান্ড ফিনালে প্রতিযোগীদের পরিবেশনার পাশাপাশি চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস নৃত্য পরিবেশন করেন। একে একে পারফর্ম করেন চিত্রনায়িকা আঁচলসহ আরো অনেকেই।

উল্লেখ্য, আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে চীনে অনুষ্ঠেয় ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার মূল আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ বিজয়ী বরিশালের পিরোজপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। আগামী ৭ ডিসেম্বর চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।

এর আগে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন জেসিয়া ইসলাম। তার আগে বাংলাদেশ থেকে ২০০১ সালে ৫১তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তাবাসসুম ফেরদৌস শাওন।

বাংলাদেশ থেকে ১৯৯৪ সালে প্রথম বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন আনিকা তাহের। এরপর ইয়াসমিন বিলকিস সাথী (১৯৯৫), রেহনুমা দিলরুবা চিত্রা (১৯৯৬), শায়লা সিমি (১৯৯৮), তানিয়া রহমান তন্বী (১৯৯৯) ও সোনিয়া গাজী (২০০০) মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

পিরোজপুরের মেয়ে ঐশীর বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে আসার গল্প
অবশেষে জানা গেলো ২০১৮ সালের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের নাম। শতশত সুন্দরীকে ছাড়িয়ে স্বপ্নের মুকুট মাথায় পরেছেন ঐশী। ভাগ্য যাকে দুই হাত ভরে দিতে চায়, তাকে কাকতালীয়ভাবেই নিয়ে যায় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। মধ্যবিত্ত পরিবারের ঐশী এইচএসসি শেষ করে জুলাই মাসে ঢাকায় এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করার জন্য। স্বপ্ন, ভালো কোথাও ভর্তি হয়ে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করা। শুরু করেছিলেন আইএলটিএস কোচিংও।

আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন ঐশী। সাদামাটা একটা জীবন। হঠাৎ-ই শুনলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮-এর আবেদন চলছে। ছেলেবেলা থেকেই নিজের সৌন্দর্যের জন্য অনেক প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। সেই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে কৌতূহল মেটাতেই নাম লিখিয়েছিলেন। সময়ের স্রোতে বরিশালের পিরোজপুরের মাটিভাঙা এলাকার সাদামাটা ঐশী এখন বিশ্ব সুন্দরীর আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

ঐশী জানালেন, আমি বাকরুদ্ধ। যারা সেরা দশে ছিলেন সবাই যোগ্য। তাদের মধ্য থেকে সেরা হিসেবে নিজের নাম শুনতে পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন মূল প্রতিযোগিতাতেও চমক দেখাতে পারি। এখনো কিছু গ্রুমিং বাকি আছে। এর মধ্যে নিজেকে আরো নিখুঁত করে নেওয়ার সুযোগ পাবো আমি।

আবেগতাড়িত ঐশী আরো বলেন, বরিশালের একটি মফস্বলের মেয়ে হিসেবে এই সাফল্য আমার কাছে অনেক বড় স্বপ্নজয়ের। অনেক বড় দায়িত্বও আমার কাঁধে এসেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সৌন্দর্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি আমি, এটা ভাবতে ভালো লাগছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকলো। আশা করছি, নিজের দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে মর্যাদার সঙ্গেই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারবো।

মূল আয়োজনে বাংলাদেশকে কিভাবে উপস্থাপন করবেন- প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশের সংস্কৃতিকে মনে ধারণ করি। আমি দেশকে ভালোবাসি, দেশের সংস্কৃতিকে ভালোবাসি। এতদিন আমি নিজের হয়ে লড়ছিলাম। এখন দেশের জন্য লড়ছি। এটা অনেক বড় দায়িত্ব আমার জন্য। সবার কাছে দোয়া চাইছি।

ঐশীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তার নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নিশাত ও নাজিবা। নিশাত বলেন, ওর (ঐশী) জন্য অনেক শুভকামনা থাকবে, ও যেন বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারে।

একনজরে ঐশী
জন্ম : বরিশালের পিরোজপুরে।
জন্ম তারিখ : ২৭ আগস্ট।
বাবা : আব্দুল হাই, বিশিষ্ট সমাজসেবী।
মা : আফরোজা হোসনে আরা, স্কুল শিক্ষিকা।
ভাই-বোন : দুই বোন। বড় বোন শশী।
শিক্ষা : চলতি বছরই এইচএসসি পাস করেছেন মাটিভাঙা ডিগ্রি কলেজ থেকে।
প্রিয় অভ্যাস : বই পড়া ও গান শোনা।
প্রিয় লেখক : হুমায়ূন আহমেদ।
প্রিয় বই : হুমায়ূন আহমেদের সব সাহিত্যই ভালো লাগে। হিমু ও মিসির আলী সিরিজের বইগুলো বেশি ভালো লাগে।
প্রিয় অভিনেতা : রাজ্জাকের অভিনয় তার খুব ভালো লাগে। বর্তমানে মাঝে মাঝে শাকিব খানের ছবি দেখেন।
প্রিয় অভিনেত্রী : শাবানা ও নুসরাত ফারিয়া।
প্রিয় শিল্পী : মিফতাহ জামান।
প্রিয় খাবার : ভাত, বাইম মাছ, আলুর যে কোনো তরকারি।
প্রিয় রঙ : সবুজ।
প্রিয় পোশাক : শাড়ি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.