পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশের মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধেই ৮-০ গোল এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে মার্জিয়ারা। দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে বাংলাদেশের কিশোরীরা আরো দ্বিগুনভাবে জ্বলে ওঠে। শেষার্ধে আরো ৯টি গোল করেন লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।
আজ রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২৫ বার গোলবার বরাবর শট নেয় বাংলাদেশের ফুটবলাররা এর মধ্যে ১৭ টিকেই তারা গোলে পরিণত করেন। এর মধ্যে সিরাত জাহান স্বপ্না সাত ও মার্জিয়া করেছেন চারটি শিউলি আজিম দুইটি গোল করেন। বাকি চার গোলদাতা আঁখি খাতুন, মিশরাত জাহান, তহুরা খাতুন ও কৃষ্ণা রানী।

গ্রুপপর্বের প্রথম জয়েই সেমিফাইনালে পা রাখলো বাংলাদেশ। কেনোনা এই পাকিস্তানকে আগেরদিন ১২-০ গোলে হারিয়েছে নেপাল। তাতে পাকিস্তানিদের বিদায় নিশ্চিত। সেমির টিকিট পাওয়া নেপাল ও বাংলাদেশ গ্রুপপর্বের সেরা হতে পরের ম্যাচে মুখোমুখি হবে।

এদিন ম্যাচের তিন মিনিটের সময় এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের নেয়া ফ্রি-কিক পাকিস্তান গোলকিপার ঠেকানোর পর বল পোস্টে প্রতিহত হয়। তবে চার মিনিট পরই লিড নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তান বক্সে জটলার মধ্যে থেকে গোলের শুরুটা করেন মার্জিয়া।

এক মিনিট পর বাংলাদেশের আরো একটি শট রুখে দেন পাকিস্তান গোলকিপার। তবে ৯ মিনিটে মাথায় আর আটকে রাখতে পারেনি পাকিস্তানিরা। লাল-সবুজদের দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে দেন মোসাম্মৎ সিরাত জাহান স্বপ্না। ১৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় আর দলের তিননম্বর গোল করেন মার্জিয়া। পরে দলকে ৪-০ গোলে এগিয়ে দিয়ে ২২তম মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মার্জিয়া।

ঘড়ির কাঁটায় ম্যাচের বয়স ৩০ মিনিট ছুঁতেই ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দলের পাঁচনম্বর গোলটি করেন স্বপ্না। দুই মিনিট পর আবার এগিয়ে যায় লাল-সবুজরা। পেনাল্টি থেকে দলের ছয়নম্বর গোলটি করেন শিউলি আজিম। ৩৭ মিনিটে গোল করেন মিসরাত জানান। ৪৪ মিনিটে গোল করে প্রথমার্ধেই নিজের হ্যাটট্রিক আর দলের দুই হালি পূর্ণ করেন স্বপ্না।

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানি মেয়েরা। বল ঠেকাতে ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশ রক্ষণে একবারও আক্রমণ করতে পারেনি দলটি। এই অর্ধের ৫৮ মিনিটে গোল করেন মোসাম্মৎ আঁখি খাতুন। ৬২ মিনিটে নিজের পঞ্চম গোলটি করেন স্বপ্না। ৬৯ মিনিটে বাংলাদেশের ১১তম গোলটি করেন শিউলি আজিম।

ম্যাচের ৭১ মিনিটে নিজের চতুর্থ ও দলের ডজন পূর্ণ করা গোলটি করেন মার্জিয়া। তিন মিনিট পর বাংলাদেশকে আরেকটি গোল এনে দেন স্বপ্না। পরের মিনিটেই অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ১৪তম গোলের স্কোরলাইন স্পর্শ করান শ্রীমতি কৃষ্ণরানি সরকার।

আর ৭৫তম মিনিটে দলের ১৫তম ও নিজের ষষ্ঠ গোলটি করেন স্বপ্না। ৮৭ মিনিটের গোল উৎসবে যোগ দেন তহুরা খাতুন। শেষে যোগ করা সময়ে পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন নিজের সপ্তম আর দলের ১৭তম গোল করা স্বপ্না।

গত মাসে ভুটানের এই চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামেই অনূর্ধ্ব ১৬ সাফে পাকিস্তানকে ১৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিলো বাংলাদেশ। এক মাসের ব্যবধানে অনূর্ধ্ব ১৮ সাফে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান হজম করল ১৭ গোল। বয়সের সঙ্গে বেড়েছে গোলও। মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের এটাই সবচেয়ে বড় জয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.