ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর সুনামিতে অর্ধশত নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
ইন্দোনেশিয়ার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় একটি শহরে সুনামির আঘাতে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্পের পর দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ শুক্রবার সুলাওয়াসি দ্বীপের পালু শহরকে ভাসিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আজ শনিবার সমুদ্র তট থেকে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি’র মুখপাত্র বলেন, ‘সুনামিতে ভেসে যাওয়া অনেক মৃতদেহ পরে সমুদ্র তট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এখনো মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত ৪৮ থেকে ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভবন ধ্বসে পড়ার সময় আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার ও ছুটাছুটির দৃশ্য দেখা গেছে। সূর্যাস্তের সময় দ্বীপটিতে ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দর। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা কর্মকর্তাদের।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরো নুগ্রহ, ‘পালু এবং কাছাকাছি ডংগালা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ওই দুই শহরেই ৬ লাখের বেশি মানুষের বাস।’

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতত্ব বিষয়ক সংস্থা বিএমকেজি’র প্রধান দিবাকরিতা কর্ণবতী বলেন, ‘১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার উঁচু সুনামি আছড়ে পড়েছে। অবস্থা খুবই শোচনীয়। লোকজন রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছে। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে। জাহাজ তীরে ভেসে এসেছে।’

স্থানীয় টেলিভিশনেও পালুর সৈকত বরাবর বাড়িঘরের ওপর ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখা গেছে।

গত মাসেও ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণঘাতি বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে। এর মধ্যে ৫ অগাস্ট হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনে লোম্বক দ্বীপেই সাড়ে চারশ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো।

পালুর ৭৮ কিলোমিটার উত্তরে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিলো বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার আগে আগে হওয়া কম্পন অনুভূত হয়েছে দ্বীপের সবচেয়ে বড় শহর মাকাসারের ৯শ’ কিলোমিটার দক্ষিণেও।

পালুর ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর তোরাজার এক বাসিন্দা জানান, ‘শুক্রবার স্থানীয় মানুষেরা কয়েকটি ভূমিকম্প টের পেয়েছে। সবশেষে হওয়া ভূমিকম্পটি সবচেয়ে জোরাল ছিলো। সবাই চিৎকার করে বাড়িঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসছিলো।’

ভূমিকম্প ও সুনামির পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে বলে দেশটির এক মন্ত্রী জানিয়েছেন। পালু বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা অন্য এক সংবাদমাধ্যমের আলোকচিত্রী ভয়াবহ এ দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। হতাহতের কারণ ভূমিকম্প, না সুনামি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর প্রথম সারিতে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি যে ‘রিং অব ফায়ারের’ মধ্যে অবস্থান করছে, সেখানে ভূপুষ্ঠের ওপর থাকা বিশ্বের সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশির অবস্থান।

২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও এর জেরে অন্তত ১৩টি দেশে সুনামি আছড়ে পড়েছিলো। সেবারের দুর্যোগে মারা পড়েছিলেন ২ লাখ ২৬ হাজার মানুষ, যার মধ্যে কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই নিহতের সংখ্যা ছিলো এক লাখ ২০ হাজারের বেশি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.