যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা কাভানার পাশে ট্রাম্প

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
একাধিক নারীর কর্তৃক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা ব্রেট কাভানার পাশে দাঁড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ট্রাম্প মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী বিচারক হিসেবে তাঁর মনোনীত ব্রেট কাভানা একজন অসাধারণ ব্যক্তি।

গতকাল বুধবার জাতিসংঘে বিশ্বনেতৃবৃন্দের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটানোর পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।এটি ছিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ সংবাদ সম্মেলন।

তিনি হয়তো আশা করেছিলেন, সম্মেলনে সাংবাদিকেরা জাতিসংঘে তাঁর ভাষণ ও অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন করবেন। কিন্তু সম্মেলনের প্রায় পুরোটা সময় তাঁকে ব্রেট কাভানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত যৌন আগ্রাসনের অভিযোগ অস্বীকার করে কাটাতে হয়।

ট্রাম্প বলেন, বুদ্ধিতে, মেধায় ব্রেট কাভানার তুল্য কেউ নেই। অথচ এই এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা যৌন আগ্রাসনের অভিযোগ এনে তাঁর নিয়োগ ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।

একাধিক নারী কর্তৃক উত্থাপিত যৌন আগ্রাসন ও হয়রানির অভিযোগে ব্রেট কাভানার নিয়োগ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে কাভানা ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনকারী অধ্যাপক ক্রিস্টিন ব্লাসি ফোর্ড নিজেদের বক্তব্য পেশ করবেন এবং কমিটির সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেবেন। কমিটির প্রধান সিনেটর চাক গ্রাসলি অবশ্য সে শুনানির ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষার বদলে পরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার, কাভানার নিয়োগ প্রশ্নে ভোট গ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ তুলেছেন, এই শুনানির লক্ষ্য সত্য উদ্ধার নয়, লোকের চোখে ধুলো দেয়া। তাঁদের দাবি, অধ্যাপক ফোর্ডের দাবির সত্যাসত্য বিচারের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প একাধিকবার কাভানাকে তাঁর জীবনে দেখা সবচেয়ে ধীমান মানুষদের একজন বলে উল্লেখ করেন। এমন একজন মানুষ যদি এই মিথ্যা অভিযোগে বিচারপতি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে এরপর হয়তো কেউই আর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে চাইবেন না। সবারই কোনো না কোনো সময় স্খলন ঘটেছে, এমনকি জর্জ ওয়াশিংটনেরও কোনো না কোনো কলঙ্কের দাগ রয়েছে। তিনি নিশ্চিত, ডেমোক্র্যাটরা তাঁকেও ভোট দিতেন না।

তাহলে প্রেসিডেন্ট কি যেসব নারী অভিযোগ উত্থাপন করেছে, তাঁদের সবাইকে মিথ্যাবাদী বলবেন? এমন প্রশ্নের জবাব সরাসরি না দিয়ে ট্রাম্প বারবার বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই মিথ্যা ও প্রতারণাপূর্ণ—তাঁর ভাষায় কন জব। তবে অধ্যাপক ফোর্ডের কথা শুনতে তিনি আগ্রহী। সে কথা শোনার পর যদি তাঁর কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, তাহলে কাভানার নাম প্রত্যাহার করতে তিনি আপত্তি করবেন না।’

তাঁর এই মন্তব্যের ব্যাখ্যায় কোনো কোনো ভাষ্যকার বলছেন, কাভানার নাম যদি প্রত্যাহার করতেই হয়, তাহলে ট্রাম্প যাতে নিজ দলের সমর্থকদের সমালোচনার শিকার না হন, তার রাস্তা পরিষ্কার করে রাখলেন।

ট্রাম্প এর আগে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক ক্ষমতাধর পুরুষের পক্ষ নিয়েছেন, কিন্তু কোনো নারীর পক্ষ নেননি। এর কারণ কি এই যে তিনি নিজেও একাধিক নারীর কাছ থেকে যৌন আগ্রাসন ও হয়রানির অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন? এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। (যারা অভিযোগ এনেছে) তাদের লক্ষ্য খ্যাতি, অর্থ। ফলে আমি যখন দেখি কেউ যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছে, আমি তা ভিন্নভাবে দেখি। কোনো মানুষ ঘরে টিভি দেখার সময় যেমন ভাবে, আমি তেমন ভাবি না।’

উল্লেখ্য, প্রায় ২০ জন নারী বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও আগ্রাসনের অভিযোগ এনেছেন। এ নিয়ে একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি এই নারীদের উৎকোচ দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন, সেই অভিযোগ ইতিমধ্যে প্রমাণিতও হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনকারী পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের আইনজীবী মাইকেল আভেনাতিকে ‘ছোটলোক’ বলে ভর্ৎসনা করেন এবং কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। কাভানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনকারী তৃতীয় এক নারীর আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আভেনাতি। ট্রাম্প সেই নারীর অভিযোগকেও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। সংবাদ সম্মেলনের পরপর এক টুইটে আভেনাতি ট্রাম্পকে ‘আস্ত গর্দভ’ নামে অভিহিত করে পাল্টা আক্রমণ করেন। আভেনাতি বলেন, ‘ট্রাম্প আমার অথবা আমার মক্কেল সম্বন্ধে কিছুই জানেন না। আমার বিরুদ্ধে আক্রমণের উদ্দেশ্য উত্থাপিত অভিযোগ থেকে নজর সরানো।’

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যথারীতি নিজ সাফল্যের নানা দাবি তুলে ধরেন, ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার ‘ফ্যাক্ট চেক’ কলামে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেসব দাবির প্রতিটি অসত্য বা অর্ধ সত্য বলে প্রমাণ করা হয়। যেমন ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, নারীদের ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। এ থেকে প্রমাণিত হয়, এ দেশের নারীরা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। বস্তুত, ট্রাম্প ৫২ শতাংশ শ্বেতকায় নারীর ভোট পেয়েছেন। মোট নারী ভোটের মধ্যে মাত্র ৪১ শতাংশ তিনি দখল করতে সক্ষম হন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.