ঐক্য প্রক্রিয়ার কুশীলবদের যাত্রা, কিন্তু কতদূর?: আহমদ রফিক

চলতি সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ ড. কামাল হোসেন, ডা. বি. চৌধুরী, আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বেশ বড়সড় সমাবেশ হয়েছে মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে, ইতিমধ্যে সমঝোতায় গঠিত ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে (নেতাদের ভাষায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া)। প্রকৃতপক্ষে ঐক্য প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু এই নেতা-কর্মী সমাবেশ থেকে।

সমাবেশের ঘোষণায় উচ্চারিত দাবিগুলোর মধ্যে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি, নির্বাচনের পূর্বে নিরপেক্ষ সরকার গঠন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গুম, খুন ও সামাজিক নৈরাজ্যের অবসান ঘটানো উল্লেখযোগ্য। আসল দাবিটি হলো, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করে তোলার জন্য ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তে প্রাক-নির্বাচনী নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার গঠন, যাতে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের এ যাবৎ প্রকাশিত মনোভাব হলো, নির্বাচন সংবিধানের বিধানমাফিক অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় দাবি-দাওয়ার কাছে নতি স্বীকারের কোনো প্রশ্ন নেই। আওয়ামী লীগের এ ধরনের অনড় মনোভাব লক্ষ্য করেই বিএনপিসহ বাকি ছোট-বড় দলগুলোর বিবাদ-ভঞ্জন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রয়োজনে আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত- পরিণামে ঐক্যজোটের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ এবং যাত্রা শুরুর ঘোষণা। ঘোষিত কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য দিক হলো- অক্টোবর থেকে দেশের সর্বত্র সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠান, তৃণমূল স্তরে জনসংযোগের মাধ্যমে একটি শক্তিমান আওয়ামী লীগ-বিরোধী শিবির গঠন। এ সমাবেশ ও ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমে চমক সৃষ্টি করেছে- প্রমাণ তাদের সংবাদ পরিবেশনের ঘটা। সমাবেশের দ্বিতীয় চমক হলো- বিএনপি ও অনুরূপ রাজনৈতিক আদর্শের এ সমাবেশে বাম বিপ্লবীবাদী ঘরানার তরুণ ও প্রবীণ দুই নেতার মঞ্চে উপস্থিতি ও ভাষণ। ব্যক্তিগত যোগাযোগ সূত্রে দুই-‘একজন অনুরূপ বামপন্থি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

দুই
বিশদ আলোচনার পূর্বে ঐক্য প্রক্রিয়া নামক ফ্রন্টের চরিত্র বিষয়ক কিছু কথা স্পষ্ট করা দরকার। পূর্ববঙ্গীয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঐক্যজোট বা যুক্তফ্রন্ট গঠন নতুন কিছু নয়, নয় অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমনকি সংযুক্ত বঙ্গদেশে। ফলাফল কখনো ইতিবাচক, কখনো নেতিবাচক। এগুলোতেও প্রায়শ দেখা গেছে, বিপরীত রাজনৈতিক মতাদর্শের সাময়িক প্রয়োজনের ঐক্য, যা শেষ পরীক্ষায় টেকেনি।

অবিভক্ত ভারতীয় রাজনীতির কথা থাক; থাক বিভক্ত ভারত-পাকিস্তানের জোট, নির্জোট বা সামরিক সরকার বনাম কথিত গণতান্ত্রিক সরকারের দ্বন্দ্বের কথা, পাকিস্তানে যার পরিণামে রক্তপাত, হত্যাকা-ের মতো ঘটনাদি- এসব বলতে গেলে আলোচনা ঐতিহ্যের টানে দীর্ঘ হবে। তবে একটি কথা মানতেই হবে যে, মতাদর্শগত বিরোধ ও বৈপরীত্য নিয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত টেকসই হয় না, কখনো কখনো সাময়িক সাফল্য সত্ত্বেও।

পূর্ববঙ্গে পঞ্চাশের দশকের যুক্তফ্রন্ট পূর্বোক্ত চরিত্র সত্ত্বেও অবধারিত হয়ে উঠেছিলো মুসলিম লীগ নামে ফ্যাসিস্ট শাসক শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। এর নেপথ্যে ছিলো কমিউনিস্ট পার্টি, যদিও তারা ফ্রন্টে শরিক হতে পারেনি। তবু গণতন্ত্রী শাসনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে তারা যুক্তফ্রন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়। যথারীতি ফ্রন্ট ফ্যাসিস্ট মুসলিম লীগকে পূর্ববঙ্গে শিকড়চ্যুত করে, যদিও একাধিক কারণে জয়ীরা ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি, এমনকি ফ্রন্টের ঐক্যও অটুট রাখতে পারেনি। এসব ইতিহাস সবাই জানি।

কিন্তু সম্প্রতি গঠিত ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে পূর্বোক্ত যুক্তফন্টের বড় পার্থক্য হলো নেতৃত্বের শক্তি নিয়ে, ঐক্যের আদর্শিক বৈপরীত্যের গুরুত্ব এবং ক্ষমতাসীনদের চরিত্র বিচার নিয়ে। পূর্বোক্ত যুক্তফ্রন্টের শক্তিমান মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রধান কারণ ছিলো, একুশের ভাষা আন্দোলনজনিত ভাষিক চেতনাঋদ্ধ জনসচেতনতা এবং সেই সঙ্গে হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর দক্ষ নেতৃত্ব। এ ক্ষেত্রে যে ঐক্যজোট গঠিত হয়েছে তা নেতৃত্বের তুলনামূলক বিচারে দুর্বল। অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন সাংগঠনিক ও জনসংশ্নিষ্টতার বিচারে একজন অসফল রাজনীতিবিদ। আওয়ামী লীগ-বিচ্ছিন্নতার পরবর্তী পর্যায়ে, এমনকি ভোটের রাজনীতিতেও তার জনসমর্থনগত অবস্থান যথেষ্ট সংহত ও বলিষ্ঠ নয়। বর্ষীয়ান এই নেতার পক্ষে জনসংযোগের শ্রমসাপেক্ষ তৎপরতা খুব একটা সহজ হবে না।
ঐক্যজোটের দ্বিতীয় বর্ষীয়ান নেতা ডা. বি. চৌধুরীর পিতা একজন আওয়ামী রাজনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বাম রাজনীতির প্রতি ছিল তার বিতৃষ্ণা। একুশের মতো আন্দোলনের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। অর্থাৎ রাজনীতি তার স্বভাব-প্রকৃতির অন্তর্গত নয়, মেধাবী ছাত্র হিসেবে ছিলো তার পরিচিতি। কথাবার্তায় চৌকস ডা. চৌধুরীর টিভি উপস্থাপনের দক্ষতা দেখে জেনারেল জিয়া তার নিজস্ব রাজনীতিতে তাকে টেনে এনে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে বসিয়ে দেন। কিন্তু এই দলেরই কারো কারো মতে, দলের সাংগঠনিক কর্মকা-ে তার সময় ও শ্রম ব্যয় কোনোটাই আকাক্সিক্ষত মাত্রায় ছিলো না।

একদা তরুণ চৌকস ছাত্রনেতা (ছাত্রলীগ) মাহমুদুর রহমান মান্না এখন বয়স্ক ব্যক্তিত্ব, ঐক্যজোটকে বিপরীত ¯্রােতে কতটা টেনে নিয়ে যেতে পারবেন- কারো কারো মতে তা বিচারসাপেক্ষ। আর আ স ম রব সত্তর-একাত্তরে ছাত্র রাজনীতিতে বিশিষ্ট পরিচিতি এবং স্বাধীনতা নামক এক দফার প্রবক্তা হলেও তার রাজনৈতিক আদর্শচ্যুতি ঘটেছে একাধিকবার উচ্চাকাক্সক্ষার টানে, যা বাস্তবে রাজনীতির এক আপদ। এখন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নবগঠিত ঐক্যজোটকে জনগণের দাওয়ায় পৌঁছে দিতে কতটা সময় ও শ্রম দিতে পারবেন, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। হয়তো তাদের নির্ভর করতে হবে তরুণ বামপন্থি রাজনীতিকের মেধা ও কর্মনিষ্ঠার ওপর।

আসলে বাস্তব ঘটনা হলো, এই ঐক্যজোটের সফলতার পক্ষে সব সাংগঠনিক কর্মভার বিএনপিকেই বহন করতে হবে। তাদের আবার নির্ভর করতে হতে পারে জামাত ক্যাডারদের কর্মতৎপরতার ওপর; সে ক্ষেত্রে তাদের গায়ে লাগাতে হবে ভিন্ন রাজনীতির তকমা। এ পরিপ্রেক্ষিতে বড় সমস্যা তৈরি হবে সেক্যুলার গণতন্ত্রী নামে পরিচিত ড. কামাল হোসেন ও তার গণফোরামের নেতা-কর্মীদের জন্য। আদর্শগত বিচারে এদিক থেকে ডা. চৌধুরীর কোনো সমস্যা নেই। কারণ তিনি সাবেক বিএনপি নেতা, একদা রাষ্ট্রপতি। সেক্যুলারিজম তাদের রাজনীতির তরিকা নয়, দলীয় গণতন্ত্রও নয়। বরং দলীয় একনায়কত্বের মধ্যেই বিএনপির গণতন্ত্রীরা (যেমন ভাসানী ন্যাপ নেতারা) কিংবা চীনাধারার বামপন্থি মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিলেন (বড় উদাহরণ মান্নান ভূঁইয়া বা আফসার সিদ্দিকী প্রমুখ)।

বিএনপির একনায়কী মতাদর্শে এরা একসময় কোণঠাসা ছিলেন। পরে আদর্শ বিক্রির বিনিময়ে পদস্থ হতে পেরেছিলেন। তাদের অনেকে এখন প্রয়াত; তাই কর্মক্ষেত্রে নেই। কিন্তু তাদের অনুসারীরা আছেন।

এদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম সেক্যুলার সংবিধান প্রণেতা রাজনীতিবিদ কীভাবে নিজেকে মেলাবেন! এ ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদের চরিত্রে ভিন্নতা- বাঙালি বনাম বাংলাদেশি। এমন এক বিপরীত্যে ঐক্যজোট গঠন- তাদের রাজনৈতিক যাত্রা শ্রমসাধ্য হবে, সন্দেহ নেই। তবে এত নেতিবাচকতার মধ্যে তাদের জন্য একটি বিশেষ ইতিবাচক দিক হলো, বিরাজমান রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি, যা জনবান্ধব নয় বরং জনমনে অসন্তোষের কারণ। ব্যাপক দুর্নীতি, শ্রেণিগত ব্যাপক আর্থসামাজিক বৈষম্য, সন্ত্রাস ও গুম, খুনের প্রবলতা, নারী নির্যাতনসহ সামাজিক সন্ত্রাস ইত্যাদির দায় ক্ষমতাসীন শাসকশ্রেণির ওপরই বর্তায়। বলা বাহুল্য, আওয়ামী লীগ দল ও তাদের সরকারের জন্য এ পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিচারে নেতিবাচক দিক; যে সুযোগ ঐক্যজোট নিতে চেষ্টা করবে। তারা এসব দিক প্রচারে জনমত সংগঠিত করতে হয়তো চেষ্টা করবে। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক পূর্ব ইতিহাস কি তাদের সহায়ক হবে? এ প্রসঙ্গে অন্য একটি বিষয়ের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে, নবগঠিত জোটের দুর্বলতা হিসেবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনা ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। আর তা দেখা গেছে অতীত রাজনীতিতেও। এ দেশেও তেমন প্রমাণ কম নয়। বিষয়টি হলো, একটি সময়নির্ভর দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত দল থেকে বেরিয়ে আসা ব্যক্তি- নেতৃত্ব নতুন শক্তিমান রাজনৈতিক দল গড়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই ব্যর্থ হয়েছে, ব্যতিক্রম অবশ্য আছে। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে উল্লিখিত ব্যর্থতার উদাহরণ ড. কামাল হোসেন, পরবর্তী পর্যায়ে ডা. বি. চৌধুরী। এমনকি বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি আহমদ। এদের বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলো সীমাবদ্ধ পর্যায়ে আবদ্ধ থেকেছে। বৃহত্তর জনমানসে শিকড়-বাকড় ছড়াতে পারেনি। এর বড় কারণ, জনারণ্যে শিক্ষার অভাব এবং অভাব রাজনৈতিক সচেতনতার। ন্যাপ ভাঙায় দায়ী অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদও তো দলীয় রাজনীতির শক্তি-সামর্থ্য বিচারে অসফল বা ব্যর্থ। অনেক ক্ষেত্রে এমনটাই বাস্তবতা, আমরা তা পছন্দ করি বা না করি, চাই বা না চাই। বামপন্থি রাজনীতিও অনুরূপ পরিণামের শিকার। ভারতে একমাত্র ব্যতিক্রম মূল দল থেকে বেরিয়ে আসা সিপিআইএম- যদিও রাজ্যবিশেষে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে।

তিন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক বিচারে ভিন্ন হলেও এ রাজনৈতিক সত্যটি তাদের জন্য অংশত হলেও সত্য। এখানেই মূল দলগুলোর রাজনৈতিক সুবিধা। সে সুবিধার ব্যবহার তারা যথাযথভাবে করে থাকে। যাই হোক, বর্তমানে ঐক্যজোট গঠন বিরাজমান রাজনীতির স্বাভাবিক মেরুকরণ বা পরিণাম হিসেবেই বিবেচিত। কারণ আমরা সবাই চাই, জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, বাধাহীন, দুর্নীতিহীন। শ্রেণিবৈষম্যপীড়িত বর্তমান সমাজে সমস্যার সমাধান যে সংসদীয় নির্বাচনভিত্তিক রাজনীতিতে নেই, সমাজ বিজ্ঞানসম্মত- এ সত্যে বিশ্বাস রেখেই চলমান ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন সুষ্ঠু হোক, এটা আমাদের কাম্য। আর সেই সূত্রে ঐক্যজোট যদি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ভিত তৈরি করতে পারে, তাহলে ক্ষমতাসীন দল সুষ্ঠু নির্বাচনে যেতে বাধ্য হবে- এটাই ঐক্যজোট গঠনের একমাত্র ইতিবাচক দিক। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা কি সে সুযোগ দিতে চাইবে?

এ আলোচনার সর্বশেষ কথা হলো, বিরোধী জোট গঠনের সুবাদে একটি সম্প্রদায়বাদী, সাম্রাজ্যবাদনির্ভর রাজনৈতিক ঐক্যজোটের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়ে দুই বাম রাজনৈতিক নেতা যে তাদের মূল দলের জন্য আদর্শিক সংকট তৈরি করলেন, সেটা বড়ই দুঃখজনক-দুর্ভাগ্যজনক। ব্যক্তিগত উচ্চাকাক্সক্ষা বা নৈরাজ্যিক চিন্তা এর কারণ, সন্দেহ নেই। আমার এ মন্তব্যে এ কথা ভাবার কারণ নেই যে, ক্ষমতাসীন দল ও তাদের জোট সাম্রাজ্যবাদ প্রভাবমুক্ত। বরং তারাও বিশ্বায়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও শ্রেণিবৈষম্যবাদী তথা পুঁজিবাদী অর্থনীতির সমর্থক। এদিক থেকে দুই শিবিরে কোনো প্রভেদ নেই। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্ষমতা দখল বা ক্ষমতা রক্ষা করা নিয়ে। এদের কারো হাত দিয়ে যে শ্রেণি বৈষম্যের অবসান এবং আদর্শিক সমাজ বদল ঘটবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদের সেক্যুলারিজম এবং গণতান্ত্রিকতা একদিকে প্রত্যক্ষভাবে নেতিবাচক। অন্যপক্ষে পরোক্ষভাবেও নেতিবাচক।
আহমদ রফিক : ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র গবেষক

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*