আফগানদের হারিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
এশিয়া কাপে টানা দুই ম্যাচ হারে পুরো টাইগার শিবিরেই যেন বিরাজ করছিলো অস্বস্তি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানদের কাছে হারের পর ভারতের বিপক্ষেও মাশরাফিরা হারের বৃত্ত থেকে বেরোতে পারেননি। অবশেষে রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজেদের ‘বাঁচা-মরার ম্যাচে’ সেই আফগানদের হারিয়েই বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠলো এলো লাল-সবুজের দল। বাংলাদেশকে হারাতে শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিলো ৮ রান, উইকেট ছিলো ৬টি। কিন্তু মোস্তাফিজ রহমানের বোলিং জাদু এতেই আটকে দিলো তাদের। শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে ‘দ্য ফিজ’র কৌশলী বোলিংয়ে ৩ রানে অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ দল। সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই ফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

রোববার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে বাংলাদেশের দেয়া ২৪৯ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২৪৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। জয়ের জন্য শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিলো আট রান। তাদের হাতে ছিল চার উইকেট। এসময় ব্যাটিংয়ে ছিলেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ও রশীদ খান। আর বোলিংয়ে ছিলেন ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমান।

ওভারের প্রথম বল থেকে দুই রান নেন রশীদ খান। দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ধরা পড়েন রশীদ খান। তৃতীয় বলে বাই সূত্রে এক রান নেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। চতুর্থ বলটি ডট হয়। পঞ্চম বল থেকে বাই সূত্রে এক রান নেন গুলবদিন নাইব। শেষ বলটি ডট হয়।

আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দুইজন ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৫৩ রান করেন ওপেনার শাহজাদ। ৭১ রান করেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। ২৮ বলে ৩৮ রান করেন মোহাম্মদ নবী। ১৯ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মাশরাফি বিন মুর্তজা ২টি, মোস্তাফিজুর রহমান ২টি, সাকিব আল হাসান ১টি ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে এদিন আফগানিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২০ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ বানিয়ে ইহসানুল্লাহকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। অষ্টম ওভারে রান আউট হন রহমত শাহ।

এরপর মোহাম্মদ শাহজাদ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। এই জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই উইকেট শিকার করেন রিয়াদ। ইনিংসের ২৫তম ওভারে ‘ভয়ঙ্কর’ শাহজাদকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। মোহাম্মদ শাহজাদ করেন ৫৩ রান। ওয়ানডেতে এটি তার ১৩তম অর্ধশত।

ইনিংসের ৪০তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আফগান অধিনায়ক আসঘার আফগানকে ফেরান টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আসঘার আফগান করেন ৩৯ রান। ৪৪তম ওভারে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে বোল্ড করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৭১ রান করেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। ওয়ানডেতে এটি তার পঞ্চম অর্ধশত। ৪৯তম ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ হন মোহাম্মদ নবী। ইনিংসের শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ক্যাচ হন রশীদ খান।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৭৪ রান করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি তার ২০তম অর্ধশত। ইমরুল কায়েস ৭২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ওয়ানডেতে এটি তার ১৫তম অর্ধশত।

অন্যদের মধ্যে লিটন দাস করেন ৪১ রান। ওয়ানডেতে এটি তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। ৩৩ রান করেন মুশফিকুর রহিম। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে মুজিব উর রহমান ১টি, আফতাব আলম ৩টি ও রশীদ খান ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ইনিংস: ২৪৯/৭ (৫০ ওভার)
(লিটন দাস ৪১, নাজমুল হোসেন শান্ত ১, মোহাম্মদ মিথুন ৬, মুশফিকুর রহিম ৩৩, সাকিব আল হাসান ০, ইমরুল কায়েস ৭২*, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৭৪, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১০, মেহেদী হাসান মিরাজ ৫*; আফতাব আলম ৩/৫৪, মুজিব উর রহমান ১/৩৫, গুলবদিন নাইব ০/৫৮, মোহাম্মদ নবী ০/৪৪, রশীদ খান ১/৪৬, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ০/৯)।

আফগানিস্তান ইনিংস: ২৪৬/৭ (৫০ ওভার)
(মোহাম্মদ শাহজাদ ৫৩, ইহসানুল্লাহ ৮, রহমত শাহ ১, হাশমতউল্লাহ শহীদি ৭১, আসঘার আফগান ৩৯, মোহাম্মদ নবী ৩৮, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ২৩*, রশীদ খান ৫, গুলবদিন নাইব ০*; মাশরাফি বিন মুর্তজা ২/৬২, নাজমুল ইসলাম অপু ০/২৯, মোস্তাফিজুর রহমান ২/৪৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ০/৩৬, সাকিব আল হাসান ১/৫৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১/১৭)।

ফল: তিন রানে জয়ী বাংলাদেশ।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (বাংলাদেশ)।

ম্যাচ সেরা হয়েও মুস্তাফিজকে জয়ের কৃতিত্ব দিলেন মাহমুদউল্লাহ
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নিজের এমন পারফরম্যান্স সত্বেও জয়ের আসল কৃতিত্ব দিলেন কাটার বয় মুস্তাফিজুর রহমানকে। ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, লিটন আজ ভালো খেলেছে। দুটো রান আউট আমাদের বড় ক্ষতি করেছে। দ্রুত ৫ উইকেট পড়ে যায়। এরপর আমি ও ইমরুল ভালো পার্টনারশিপ গড়ি। কাজটা সহজ ছিলো না। আবহাওয়া খুব গরম ছিল। আমি শুকিয়ে যাচ্ছিলাম। ইমরুল এই পজিশনে ব্যাট করে না ও ওপরের দিকে ব্যাট করে। ওর জন্যও কাজটা সহজ ছিল না। গত কয়েক দিন ওর ওপর অনেক চাপ গেছে। তারপরেও সে অসাধারণ লড়াই করেছে। দারুণ ব্যাট করেছে। তবে আমি জয়ের আসল কৃতিত্ব দিতে চাই মুস্তাফিজকে। শেষ ওভারটা ও অসাধাণ করেছে।

মাশরাফির প্রশংসা করে মাহমুদউল্লাহ বলেন, খুব গুরুত্বপূর্ণ দুটি ব্রেক থ্রু করেছে। মাশরাফির দুই উইকেটে আমরা ম্যাচে ফিরি। তবে আমি পুরো দলকে কৃতিত্ব দিতে চাই। এটা ছিলো দলগত প্রচেষ্টার ফল। হ্যাঁ, শান্ত আজও ভালো করতে পারেনি। কিন্তু ওর সময় দরকার।

আফগানিস্তানকে হারানোর পর এখন ফাইনালের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ২৬ তারিখ পাকিস্তানকে হারাতে পারলে ভারতের সঙ্গে ফাইনাল খেলবে মাশরাফির দল। আবুধাবি পাকিস্তানের হোম গ্রাউন্ডের একটি। এই পাকিস্তানকে হারানো সহজ হবে না মনে করলেও, কাজটা আবার অসম্ভবও ভাবছেন না রিয়াদ। তিনি বলছিলেন, আমাদের হাতে দুটো দিন সময় আছে। এটা ভালো ব্যাপার। আমাদের ভুলগুলো, দুর্বল দিকগুলো এ সময় আলোচনা করে শুধরানোর সুযোগ পাব। ম্যাচটা সহজ না হলেও জয় অসম্ভবও নয়। আমরা ওই ম্যাচটার জন্য অপেক্ষা করছি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.