বাংলাদেশের সামনে মরণ ফাঁড়া আফগান স্পিনাররা

ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
এশিয়ার কাপের সুপার ফোরে আজ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বিশ্ব সেরা আফগান স্পিনারদের কিভাবে সামলাবে এই চ্যালেঞ্জটা এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাকিব-মুশফিকদের সামনে। আজ সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা ‘সেমিফাইনাল’। তার আগে কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে পাকিস্তান কী ভীষণ চাপেই না ছিলো সেটা সবারই জানা। আর সরফরাজের দল হারতে হারতে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে। পাকিস্তানকে এমন চাপে ফেলার পেছনে আফগান স্পিনারদের ভূমিকা ছিলো সবচেয়ে বেশি। রশিদ খান (৩/৪৬) ও মুজিব উর রহমান (২/৩৩) মিলে ভুগিয়ে ছেড়েছেন পাকিস্তানকে।

ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘আজ আমাদের কাঁপিয়ে ছেড়েছে। এই কন্ডিশনে ২৫০ রান তাড়া করা সেটিও আফগান স্পিনারদের বিপক্ষে, যাঁদের আমি বিশ্বের সেরা বলে মনে করি। তাঁদের বিপক্ষে সত্যিই ভালো ব্যাট করতে হবে।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মুশফিক-মিঠুনরা একটি পার্টনারশিপ গড়লেও পরের দুই ম্যাচে সবাই দল বেঁধে ব্যর্থ। আফগানিস্তানের ২৫৫ রান তাড়া করতে নেমে ১১৯ এবং ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭৩। অন্তত ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং কঙ্কাল বেশ কিছুদিন দেখা যায়নি। আজও তেমন কিছু ঘটলে কিন্তু পত্রপাঠ বিদায়। শঙ্কাটা এখানেই। লড়াইটা যে সরফরাজের ‘বিশ্ব সেরা স্পিনার’দের বিপক্ষে!

আক্ষরিক অর্থেই আফগানদের স্পিনাররা বিশ্ব সেরা কি না, তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে এই এশিয়া কাপে আফগান স্পিনারেরা কিন্তু বাকিদের চেয়ে এগিয়ে।

সর্বোচ্চ উইকেট রশিদ খানের (৩ ম্যাচে ৭টি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুজিব উর রহমানের (৩ ম্যাচে ৬টি)। ৩ ম্যাচে অন্তত ২০ ওভারের ওপরে বল করেছেন, এমন বোলারদের মধ্যে সেরা গড় রশিদের (১২.১৪)। ২০ ওভারে বল করা বোলারদের মধ্যে ইকোনমি রেটে এই দুই আফগানের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ২৫ ওভার বল করা মিরাজের ইকোনমি রেট ৩.২০। ২৭.১ ওভার বল করা মুজিবের ইকোনমি রেট মিরাজের সমান। রশিদের (২৬.২ ওভার) ইকোনমি রেট ৩.২২।

মোহাম্মদ নবীর কথা ভুললে চলবে না। এই ৩ ম্যাচে রশিদ ও মুজিবকে কিন্তু দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন নবী। ৩০ ওভার বল করে ৩ উইকেটসহ তাঁর ইকোনমি রেট ৩.৪৬। আফগান অধিনায়ক আসগর আফগান তাঁর স্পিনারদের নিয়ে আক্রমণ সাজান সাধারণত এভাবে—নতুন বলে মুজিবের পর নবী এসে চাপে রাখেন ব্যাটসম্যানদের। এরপর রশিদ এসে সেই চাপকে পরিণত করেন গলার ফাঁসে। আগের ম্যাচেই তা দেখা গেছে।

গ্রুপপর্বের সেই ম্যাচে আফগান বোলারদের বিপক্ষে মোট ১৭১টি বল ‘ডট’ দিয়েছিলো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এর মধ্যে তিন স্পিনার রশিদ (৪৪), মুজিব(৩১) ও নবী (৪২) মিলে তুলে নিয়েছেন ১১৭টি ‘ডট’ বল। মুজিব ২টি এবং নবী ১ উইকেট নিয়েছিলেন। রশিদও ২ উইকেট নিয়েছিলেন তবে সেই দুই উইকেট ভেঙেছিল দলের ব্যাটিং মেরুদণ্ড—সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ।

আজকের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মরণ ফাঁড়া আফগান স্পিনারদের কিভাবে সামাল দেয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তার ওপর নির্ভর করছে এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের টিকে থাকা না থাকার বিষয়টি।

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.