কুষ্টিয়া বাংলাদেশের গৌরব: জালাল উদ্দিন

জালাল উদ্দিন। ফাইল ফটো

ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমনের ২১৬ বছর পূর্বে বিহার প্রদেশের শের খাঁ তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে দিল্লি আক্রমণ করেন এবং মূঘল স¤্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ১৫৪০ সালে মুঘল সাম্রাজ্য দখল করে নিয়েছিলেন। শের খাঁ ১৫৪৫ সাল পর্যন্ত ভারত শাসন করেন। রাজস্থান প্রদেশের কালিজির দুর্গ দখল করার যুদ্ধে শের খাঁর মৃত্যু হলে তাঁর ছেলে ১৫৫৫ পর্যন্ত ভারত শাসন করেছিলেন। হুমায়ুন ইতোমধ্যে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে মুঘল সা¤্রাজ্য দখল করেন এবং শের খাঁর বাহিনী ও তাঁর অনুসারীদের ওপর অত্যাচার শুরু করেন। যতোদুর জানা সম্ভব হয়েছে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা শের খাঁর অনুসারী ছিলেন এবং তারা মূঘল সম্রাট হুমায়ূনের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য সেই সময়ে বর্তমান কুষ্টিয়ায় বসতি গড়ে তোলেন। তাই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে পুরুষানুক্রমে এই কুষ্টিয়ার মাটিতে আমাদের শেঁকড় গাড়া আছে। সে কারণে কুষ্টিয়ার প্রতি আমাদের সবিশেষ আকর্ষণ থেকেই যায়।

কুষ্টিয়া ১৭২৫ সালে নাটোরের জমিদারের অধীনে চলে যায়। যদিও পরবর্তীতে ১৭৭৬ সালে যশোর জেলার সঙ্গে এবং ১৮২৮ সালে পাবনা জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ১৮৬১ সালে কুষ্টিয়া মহকুমা হয় এবং ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়া শহর পৌরসভা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের কারণে মেহেরপুর এবং চুয়াডাঙ্গা এই দুইটি মহকুমা নিয়ে কুষ্টিয়া পূর্ণাঙ্গ একটি জেলা হয়; যার নাম হয় নদীয়া। আর সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অধীনস্থ জেলাটির নাম হয় নবদ্বীপ। যদিও অল্প সময়ের মধ্যেই নাম পরিবর্তিত হয়ে নবদ্বীপ হয়ে যায় নদীয়া আর নদীয়া হয়ে যায় কুষ্টিয়া।

কুষ্টিয়া জেলার নামকরণ নিয়ে নানা রকমের মতভেদ আছে। হ্যামিল্টন গ্যাজেটিয়ারে উল্লেখ আছে, কুষ্টা (পাট) থেকে কুষ্টিয়া নাম এসেছে। কারো মতে, কুশতাহ থেকে কুষ্টিয়া হয়েছে। কুশতাহ ফারসী শব্দ; যার অর্থ ছাই দ্বীপ। কুষ্টে বৃহৎ নদীবন্দর ছিল এবং সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে কুষ্টিয়া নামকরণ করা হয় বলেও প্রচলিত আছে। মুফতি ড. নজরুল ইসলাম মনে করেন, কাষ্টিয়া থেকে কুষ্টিয়া হয়েছে। চূরানী ভাষা কাষ্টিয়া, যার অর্থ ওলি আওলিয়াদের ঘুমানোর জায়গা। তবে, অধিকাংশের মতে, কুষ্টিয়া অঞ্চলে ব্যপক পাটচাষ হতো। আঞ্চলিক ভাষায় পাটকে এই এলাকায় কুষ্টা বলা হতো এবং এখানে অনেকে এখনও এই শব্দটা ব্যবহার করেন। আর সেই কুষ্টা থেকেই কুষ্টিয়া। সম্রাট শাহজাহানের আমলে যেখানে নদীবন্দর ছিল সেখানে কুষ্টিয়া নামে একটি গ্রাম এখনও আছে।

বর্তমান বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্য যেসব মহান ও ত্যাগী ব্যক্তির জন্মস্থান এবং বিচরণক্ষেত্র হিসাবে কুষ্টিয়া গর্বিত, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-
১) নীলচাষবিরোধী যোদ্ধা বিষ্ণুচরণ, দিগম্বর, বিশ্বনাথ সর্দার, জমিদার প্যারী সুন্দরী।
২) বিশ্ববিখ্যাত পরিসংখ্যানবিদ, সাহিত্যিক, দার্শনিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কাজী মোতাহার হোসেন।
৩) ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কাজী মিয়াজান, আকছার উদ্দীন, আজীমুদ্দীন, গগণ হরকরা, বাঘা-যতীন, জলধর সেন, শিবচন্দ্র বিদ্যাণব, আকবর হোসেন, নাজমুল আলম, সরোজ আচার্য, অতুলকৃষ্ণ, সুনীল সেনগুপ্ত, জ্যোতিশ্চন্দ্র, অনন্ত হরী।
৪) অমর সাহিত্যিক-সাংবাদিক মীর মোশাররফ হোসেন, কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, পূর্ণচন্দ্র লাহিড়ী, কবি আজিজুর রহমান, কবি দাঁদ আলী।
৫) রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে খেলাফত আন্দোলনের অন্যতম নেতা অধ্যাপক আকছার উদ্দীন, কৃষক প্রজা আন্দোলনের নেতা শামসুদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক আব্দুর সাত্তার।
৬) কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পাল।
৭) বাউল সম্রাট লালন শাহ।
৮) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুষ্টিয়ায় পারিবারিক জমিদারি দেখতে এসে কবি হয়ে এবং কবিগুরু হওয়ার পরও তাঁর পদচারণা ছিল কুষ্টিয়ায়।
৯) বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একাধিকবার কাজী মিয়াজানের সঙ্গে কুষ্টিয়ার কার্পাশডাঙ্গা এলাকা সফর করেছেন।
১০. অমর কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কুষ্টিয়া জেলার কাশিপুর জমিদার বাড়িতে বসে তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প ‘মহেশ’ লিখেছিলেন।

বাংলাদেশ ভূখ-ে (তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্তর্গত) প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয় কুষ্টিয়ায় ১৮৬০ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় এই এলাকাকে কেন্দ্র করে ‘কেরু এন্ড কোং’ চিনিকল এবং জগতি চিনিকল গড়ে ওঠে। এই কুষ্টিয়াতেই ১৯০৪ সালে এশিয়ার বিখ্যাত কাপড়ের কল ‘মোহিনী মিল’ প্রতিষ্ঠিত হয়, গড়ে ওঠে তাঁতশিল্প। প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মিত হয় ১৯০৯ সালে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কুষ্টিয়ার এখনও পরিচিতি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে। এছাড়া কুষ্টিয়ার আরো গৌরবময় পরিচিতি আছে। যথা : ১. ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন। ২ . জমিদার ও নীলকদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। ৩. শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্য, অসাম্প্রদায়িকতা।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৭৭ সালে কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর এলাকায় বাংলার উর্বর সমতলভূমিতে জবরদস্তিমূলকভাবে নীলচাষ শুরু করে। আবাদি জমি নষ্ট করে নীল চাষের পরিণাম হয়েছিল ফসলহীনতার কারণে খাদ্যহীন মানুষের করুণ আহাজারি, নীলচাষ করতে অস্বীকারকারী কৃষকদের ওপর নির্মম অত্যাচার, নারীর সম্ভ্রমহানি, ঘোড়ার পায়ের সঙ্গে বেঁধে চাবুক মেরে মানুষ হত্যার পর হত্যাকারীদের পৈশাচিক উল্লাস, বিনাচিকিৎসায় মানুষের মৃত্যু। এই সর্বনাশা নীলচাষের বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলন শুরু করেন কুষ্টিয়ার কৃষক বিষ্ণুচরণ ও দিগম্বর ১৮০২ সালে। কুষ্টিয়ার আরেক বীর কৃষকসন্তান বিশ্বনাথ সর্দারের হাসকুল (মুগুর) বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে নীলকর সাহেব স্যামুয়েল কেডির নীলকুঠি ধ্বংস করে দেয়। বিশ্বনাথ সর্দার ১৮০৭ সালে কেডির বাসভবন আক্রমণ করে পরিবারের অন্য সকল সদস্যকে হত্যা করলেও ঘটনাক্রমে সেদিন বেঁচে যান কেডি। ভবিষ্যতে নীলচাষ না করার ঘোষণা দিয়ে কেডি বাঁচার আকুতি জানিয়ে জীবন রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনার পরপরই ইংরেজরা বিশ্বনাথকে ডাকাত বলে আখ্যায়িত এবং তাঁর মাথার জন্য (জীবিত অথবা মৃত ধরিয়ে দেয়া) পুরস্কার ঘোষণা করে। অত্যাচারী ইংরেজদের পুরস্কারের টাকার লোভে বিশ্বনাথ সর্দারের পালিত পুত্র পঞ্চানন তাঁকে ধরিয়ে দেয়। এরপর কুষ্টিয়ার এ বীর সন্তানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে ইংরেজ দখলদাররা।

জালাল উদ্দিন: ফাইল ফটো

কুষ্টিয়ার আমলা অঞ্চলের জমিদার রামানন্দের কন্যা জমিদার প্যারী সুন্দরী প্রজাদের সঙ্গে নিয়ে অত্যাচারী নীলকর সাহেব আইভান কেনির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। কেনির অত্যাচারের কাহিনী মীর মোশাররফ হোসেন রচিত ‘উদাস পথিকের মনের কথা’ গ্রন্থে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। বিদ্রোহী কৃষকরা সেদিন কুষ্টিয়া শহরের শালঘর মধুয়ায় কেনির বাসভবন আক্রমণ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইংরেজকে হত্যা ও বাসভবন ধ্বংস করেছিল। তাই কৃষকদের নিকট প্যারী সুন্দরী অমর হয়ে আছেন। কুষ্টিয়াসহ নীলচাষ হতো এমন এলাকায় কৃষকরা যখন তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তখন ব্রিটিশদের দালাল দ্বারকানাথ ঠাকুর, প্রসন্ন ঠাকুর, রাজা রামমোহনসহ অনেকে ১৮২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কোলকাতার টাউন হলে বৈঠক করে ব্র্রিটিশদের নীলচাষ বাড়ানোর আবেদন করে। ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ ছোটলাট লর্ড গ্র্যান্ড পদ্মা ও গড়াই নদী দিয়ে বজ্রা (এক ধরনের বিশেষ নৌকা) নিয়ে যাচ্ছিলেন। কুষ্টিয়ার হাজার হাজার কৃষক ছোটলাটকে ঘেরাও করে নীলচাষের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে তাঁকে জানায়। লর্ড গ্র্যান্ড পাবনায় পৌঁছে জবরদস্তিমূলকভাবে নীলচাষ না করার ঘোষণা দেন; যদিও সে ঘোষণা কোনো কাজে আসেনি। তবে ১৮৬২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ইংরেজ বাহিনী নির্মমভাবে কৃষক বিদ্রোহ দমন করলেও এর প্রায় তিন দশক পর নীলচাষ বন্ধ করতে বাধ্য হয় তারা। ১৯০০ সালে নিশিন্তপুর নীলকুঠি বন্ধ করার মধ্য দিয়ে কৃষকের বুকে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা নীলচাষের অবসান হয়। ১৯২৯ সালে গড়াই নদীতে পুনরায় লর্ড গ্র্যান্ডকে ঘেরাও করে কৃষকরা। তাঁকে বিলাতে ফিরে গিয়ে নীলচাষ বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। নীলচাষ বন্ধে কুষ্টিয়ার কৃষকদের এই বীরোচিত ভূমিকা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

১৮৩৯ সালের ৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেন দেশমাতৃকার সূর্যসন্তান, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক বাঘা যতীন। এই বীরসন্তান ব্রিটিশশক্তিতে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সাহসিকতা ও বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে কোপ্তিপোতায় জেনারেল টেগার্ট হ্যাট (ইংরেজ সাহেবদের ব্যবহৃত বিশেষ টুপি) খুলে বাঘা যতীনকে স্যালুট করে বলেছিলেন, “তুমি সতিই বাংলা মায়ের বীরসন্তান।” ১৯১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বীর বিপ্লবীর জীবনাবসান ঘটে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার আরো কয়েক বীরসন্তান। তাঁরা হলেন- কাজী মিয়াজান, আজীমুদ্দিন মোল্লাা ও আকছারুদ্দীনসহ মোট ১১ জন। এদের মধ্যে অত্যাধিক শারীরিক নির্যাতনের কারণে জেলেই মৃত্যু হয় কাজী মিয়াজানের। আজীমুদ্দিন মোল্লা ও আকছারুদ্দীনসহ বাকি আটজনের দীপান্তর সাজা হয়। ১৮৩৬ সালে জন্ম নিয়ো ১৮৯৫ সালে মৃত্যুবরণকারী কুষ্টিয়ার গর্বিত সন্তান ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কাঙ্গাল হরিনাথ এই অঞ্চলে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক খবরের কাগজ ‘গ্রামবার্তা’র সম্পাদক ছিলেন। জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লাগাতার লেখালেখির কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারির অন্তর্গত লাঠিয়ালরা কাঙ্গাল হরিনাথের বাড়ি লুট করতে এসেছিল। ফকির লালন শাহ এই সংবাদ পাওয়ামাত্রই কাঙ্গাল হরিনাথকে সাহায্য করার জন্য শত শত সাধুদের সেখানে পাঠান। সাধুদের প্রতিবাদী মানববন্ধনের কারণে জমিদার লাঠিয়ালরা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

ব্রিটিশবিরোধী আরেক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব হলেন অমর সাহিত্যিক মোশাররফ হোসেন। ১৮৪৭ সালে জন্ম নেওয়া কুষ্টিয়ার এই কৃতীসন্তানের জীবনাবসান ঘটে ১৯১১ সালে। ব্রিটিশ ও জমিদারদের অত্যাচারের কাহিনী ‘উদাস পথিকের মনের কথা’ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে গেছেন তিনি। বাউল সম্রাট লালন কুষ্টিয়া তথা সারা বাংলার গর্ব। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭৪ সালে এবং তাঁর জীবনাবসান হয় ১৮৯০ সালে। ব্রিটিশ ও জমিদারদের অত্যাচার তাঁকে ব্যথিত করতো। সাম্প্রদায়িকতা, শ্রেণি ও জাতপাতের বিরুদ্ধে আমৃত্যু যুদ্ধ করে গেছেন ফকির লালন। তিনি কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারকে খুব স্নেহ করতেন। ভারতবর্ষের মুক্তিসংগ্রামে কুষ্টিয়ার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখায় কুষ্টিয়া গর্বিত।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও কুষ্টিয়ার ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। সশস্ত্র যুদ্ধের শুরুতেই যশোর সেনানিবাস থেকে আসা পাকিস্তানি বাহিনীকে কুষ্টিয়ায় তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছিল। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং কুষ্টিয়ার তৎকালীন মেহেরপুর মহাকুমার (বর্তমানে মেহেরপুর জেলা) মুজিবনগরে যুদ্ধকালীন সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠনে এখানকার বীর জনতার ভূমিকা ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে।

জালাল উদ্দিন : অধিকারকর্মী ও অনিয়মিত লেখক

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.