ঢাবিতে পরীক্ষার্থীদের পানি পান করালেন ছাত্রলীগ কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পানি পান করিয়েছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর, অপরাজেয় বাংলা, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও কার্জন হল এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সুপেয় পানি নিয়ে সেবা দিতে দেখা গেছে।

এদিন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদের অধীনে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় দুই হাজার ৩৮৩টি আসনের বিপরীতে ৩৫ হাজার ৭২৬ জন ভর্তিচ্ছু ৬৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।

ক্যাম্পাসের ২১টি স্থানে বসানো হয়েছে ছাত্রলীগের তথ্য প্রদান ও শিক্ষার্থী সহায়তা কেন্দ্র, যেখান থেকে ভর্তিচ্ছুরা নিজেদের আসন ব্যবস্থা, কেন্দ্রের অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য জানতে পারছেন; পাশাপাশি সঙ্গে আনা ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সেখানে নিরাপদে জমাও রাখতে পারছেন৷ প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব করছেন বিভিন্ন হল ও অনুষদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর আশপাশেই রয়েছে পানি পানের ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে শাহবাগ, নীলক্ষেত, দোয়েল চত্বর ও পলাশী মোড়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে ‘জয় বাংলা বাইক সার্ভিসের’। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

ছাত্রলীগের এই উদ্যোগকে ‘মানবিক রাজনীতির’ পথে এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শুক্রবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

আফসানা চৌধুরী নামে পরীক্ষার্থী বলেন, ‘ভাইয়ারা ডেকে ডেকে সবাইকে পানি খাওয়াচ্ছেন, বিষয়টি দেখতেই ভালো লাগছে। উনারা রাজনীতি করেন, বর্তমান রাজনীতিকে আমরা অনেকেই নেতিবাচকভাবে দেখি। তবে পরীক্ষা দিতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইয়া-আপুদের যে আন্তরিকতা দেখলাম তা এক কথায় অসাধারণ৷ আমরা চাই সবাই এমন রাজনীতিই করুক।’

আফসানার বাবাও ছাত্রলীগের এ ধরনের সেবামূলক কর্মকাণ্ডে খুশি। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ের অনেক কার্যক্রমে ছাত্ররাজনীতির প্রতি একটা বিরক্তি কাজ করছিলো। তবে ছাত্রদের এরকম মানবিক কাজ করতে দেখলে খুব ভালো লাগে৷ এই ধরনের ইতিবাচক মানসিকতার সংগঠন আমরা চাই।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘আসলে এটা বাহবা দেয়ার মতো কোনো কাজ না। আমি আমার দায়িত্বের জায়গা থেকেই এ কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা চেষ্টা করছি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেটা পালন করতে। তাছাড়া আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে যে সমস্যায় পড়েছিলাম আমি চাই না আমার কোনো ছোটভাই বা উত্তরসূরি সেই সমস্যায় পড়ুক। এটাকে আমি আসলেই বাহবা দেয়ার মতো কিছু মনে করি না, দায়িত্ব মনে করি।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.