হংকংয়ের বিদায়, সুপার ফোরে ভারত-পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
এশিয়া কাপে রূপকথার আভাস মিলছিলো মঙ্গলবার রাতে। ভারতের বিপক্ষে যে রূপকথা প্রায় লিখেই ফেলছিলো হংকং। ২৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৭৪ রান তুলে ফেলে নিজাকাত খান ও অংশুমান রাঠ জুটি। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত যেন তখন ম্যাচ থেকে একটু একটু করে ছিটকেই যাচ্ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কুলদ্বিপ যাদব ভাঙেন হংকংয়ের অবিশ্বাস্য ওপেনিং জুটি। আর এরপর দারুণভাবে খেলায় ফিরে ম্যাচটাও নিজেদের পকেটে পুরেছে ভারত। এশিয়া কাপে মঙ্গলবার ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে হংকংকে ২৬ রানে হারিয়েছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে সুপার ফোর নিশ্চিত হয়েছে ভারতের। সেই সাথে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। আর বিদায় নিয়েছে হংকং। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হংকংকে আট উইকেটে হারিয়েছিল পাকিস্তান। গতকাল (সোমবার) ‘বি’ গ্রুপ থেকে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। বিদায় নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হবে ‍সুপার ফোর পর্বের খেলা।

মঙ্গলবার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ভারতের দেয়া ২৮৬ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান সংগ্রহ করে হংকং। দলের পক্ষে নিজাকত খান ৯২ ও আনশুম্যান র‌্যাথ ৭৩ রান করেন। ভারতের বোলারদের মধ্যে যুজবেন্দ্র চাহাল ৩টি, খলিল আহমেদ ৩টি ও কুলদীপ যাদব ২টি করে উইকেট শিকার করেন। এই ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলো ২০ বছর বয়সী ভারতীয় পেসার খলিল আহমেদের। অভিষেক ম্যাচে দশ ওভার বল করে ৪৮ রান দিয়ে তিনি তিনটি উইকেট শিকার করেছেন।

এদিন ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল হংকং। মনে হচ্ছিল এই ম্যাচে তারা হয়তো অঘটন ঘটিয়ে দেবে। ওপেনিং জুটিতে নিজাকত খান ও আনশুম্যান র‌্যাথ ১৭৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ওয়ানডেতে হংকংকের ক্রিকেট ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে জুটিতে এটি সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ।

ইনিংসের ৩৫তম ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক আনশুম্যান র‌্যাথ। ৩৬তম ওভারে নিজাকত খানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন খলিল আহমেদ। ওপেনিং জুটি ভালো একটি ভিত গড়ে দিলেও পরে একের পর এক উইকেট হারিয়ে লাইন হারিয়ে ফেলে হংকং।

৪০তম ওভারে খলিল আহমেদের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন ক্রিস্টোফার কার্টার। ৪১তম ওভারে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন বাবর হায়াৎ। ৪৫তম ওভারে কিঞ্চিৎ শাহ ও আইজাজ খানকে ফেরান যুজবেন্দ্র চাহাল। ৪৭তম ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে স্ট্যাম্পিং হন স্কট ম্যাককেচনি। ইনিংসের শেষ ওভারে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ইহসান খানকে ফেরান খলিল আহমেদ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শিখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরি আর আম্বাতি রায়ডুর হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে ভালো সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২৮৫ রান সংগ্রহ করেছে রোহিত শর্মার দল। শিখর ধাওয়ান করেন ১২৭ রান। আর আম্বাতি রায়ডু করেন ৬০ রান। হংকংয়ের বোলারদের মধ্যে ইহসান নওয়াজ ১টি, আইজাজ খান ১টি, ইহসান খান ২টি ও কিঞ্চিৎ শাহ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ফল: ২৬ রানে জয়ী ভারত।

ভারত ইনিংস: ২৮৫/৭ (৫০ ওভার)
(রোহিত শর্মা ২৩, শিখর ধাওয়ান ১২৭, আম্বাতি রায়ডু ৬০, দিনেশ কার্তিক ৩৩, মহেন্দ্র সিং ধোনি ০, কেদার যাদব ২৮*, ভুবনেশ্বর কুমার ৯, শারদুল ঠাকুর ০, কুলদীপ যাদব ০*; তানবীর আফজাল ০/৩৪, ইহসান নওয়াজ ১/৫০, আইজাজ খান ১/৪১, ইহসান খান ২/৬৫, নাদিম আহমেদ ০/৩৯, নিজাকত খান ০/১৫, কিঞ্চিৎ শাহ ৩/৩৯)।

হংকং ইনিংস: ২৫৯/৮ (৫০ ওভার)
(নিজাকত খান ৯২, আনশুম্যন র‌্যাথ ৭৩, বাবর হায়াৎ ১৮, ক্রিস্টোফার কার্টার ৩, কিঞ্চিৎ শাহ ১৭, ইহসান খান ২২, আইজাজ খান ০, স্কট ম্যাককেচনি ৭, তানবীর আফজাল ১২, ইহসান নওয়াজ ২*; ভুবনেশ্বর কুমার ০/৫০, খলিল আহমেদ ৩/৪৮, শারদুল ঠাকুর ০/৪১, যুজবেন্দ্র চাহাল ৩/৪৬, কুলদীপ যাদব ২/৪২, কেদার যাদব ০/২৮)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: শিখর ধাওয়ান (ভারত)।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.