‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে ভারত’

কক্সবাজার সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশ এতো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু এই বোঝা বাংলাদেশের পক্ষে দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব নয়। তাই রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদে স্বদেশে প্রত্যাবাসনে ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ সোমবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

ভারত ২০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য একটি করে স্টোভ এবং ১০ কেজি করে কেরোসিন দিয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার হাতে রোহিঙ্গাদের জন্য ভারতের পক্ষ এই ত্রাণ সহায়তা হস্তান্তর করেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে উল্লেখ করে শ্রিংলা বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ত্রাণসামগ্রী দেয়ার পর এবার তৃতীয় দফা হিসেবে কেরোসিন ও স্টোভ বিতরণ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জ্বালানির কথা বিবেচনা করে আজ ১১ লাখ লিটার কেরোসিন ও ২০ হাজার স্টোভ বিতরণ করা হচ্ছে। ২০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে একটি করে স্টোভ ও ১০ কেজি করে কেরোসিন বিতরণ করা হচ্ছে।’

ভারতের সহায়তার জন্য ত্রাণমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই ত্রাণসামগ্রী দিয়ে ২০ হাজারের বেশি পরিবার পাঁচ মাসের রান্নার ব্যবস্থা হবে। এখানে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট। আমরা ভারতের কাছে সহায়তা চেয়েছিলাম। তারা দ্রুত সারা দিয়েছে। এজন ধন্যবাদ।’

সংকটের সময়ে ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের পাশে থাকে মন্তব্য করে ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, ভারত মানবিক সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপে মোট ৩৭৩ মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী দেয় ভারত, যার মধ্যে ছিলো ১০৪ মেট্রিক টন গুড়ো দুধ, ১০২ মেট্রিক টন শুটকি, ৬১ মেট্রিক টন শিশু খাদ্য, ৫০ হাজার রেইনকোট ও ৫০ হাজার জোড়া গামবুট; প্রথম ধাপে ছিল ৯৮১ মেট্রিক টন ত্রাণ।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে রওনা দেন ভারতের হাই কমিশনার। পরে সেখানে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর বেলা দেড়টার দিকে তিনি কক্সবাজারের উদ্দ্যেশে রওনা দেন। সেখান থেকে ঢাকা ফিরেন তিনি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.