হত্যা নয়, তাসফিয়া আত্মাহত্যা করেছে: পুলিশ

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর তীরে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর তার স্বজনরা হত্যা মামলা করলেও তদন্ত শেষে পুলিশ বলেছে, সেটা ছিলো আত্মহত্যা। সাড়ে চার মাস ধরে তদন্তের পর আজ  রোববার চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শী ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তাসফিয়া আত্মহত্যা করেছে।’

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাসফিয়ার বাবার করা হত্যামামলার সন্দেহভাজন ছয় আসামিকেও অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানানো হয়। আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ফরেনসিক প্রতিবেদনে তাসফিয়ার শরীরে কোনো বিষক্রিয়া না পাওয়া এবং ডিএনএ প্রতিবেদনেও ‘ভিন্ন কিছু’ না পাওয়ার কথা জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবু বকর। তবে কী কারণে তাসফিয়া আত্মহত্যা করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ভাষ্য পাওয়া যায়নি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে।

গত ২ মে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাট থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা মরদেহের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর জানা যায়, এই কিশোরী নগরীর ও আর নিজাম রোডের বাসিন্দা মো. আমিনের মেয়ে তাসফিয়া আমিন। সে নগরীর সানশাইন ইংলিশ গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়তো।

পরে পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ফেইসবুকে অন্য একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রের আদনানের সঙ্গে তাসফিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো, যদিও তাতে আপত্তি ছিলো এই কিশোরীর পরিবারের। মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন ১ মে তারা বেড়াতে বের হয়ে গোলপাহাড় এলাকায় চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করতে গিয়েছিলেন বলেও অনুসন্ধানে ধরা পড়ে।

তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর তাসফিয়ার ওই বন্ধুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই তরুণের কথিত দুই বড় ভাইকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মামলাটি প্রথমে পতেঙ্গা থানা পুলিশ তদন্ত করে। এক মাস পর ৭ জুলাই তদন্তের ভার যায় গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

ডিবি কর্মকর্তা আবু বকর বলেন, ‘মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলের আশে পাশে থাকা লোকজন ও দোকানিদের সঙ্গে কথা বলি। তারা জানিয়েছে, তাসফিয়া বেশ কিছুক্ষণ একা বসে থাকার পর পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে নদীর দিকে গিয়েছিলো। পরে নদীর দিক থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে তারা টর্চ নিয়ে খুঁজেছিলেন।’

তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে তার বিচার দাবিতে মানববন্ধনও হয়েছিল তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে তার বিচার দাবিতে মানববন্ধনও হয়েছিলো।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ মে তাসফিয়া তার বন্ধু প্রেমের এক মাস পূর্তি পালন করতে সন্ধ্যা ৬টায় চায়না গ্রিল রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। তখন তাসফিয়ার মা তাকে খুঁজে না পেয়ে ওই তরুণের বন্ধুকে ফোন করেন। আদনানের সঙ্গে সম্পর্কটি তাসফিয়ার পরিবার জানতে পেরে তার কাছ থেকে মোবাইল ও সিম নিয়ে ফেলেন। তারপরও তারা গোপনে যোগাযোগ রাখছিলেন।

চায়না গ্রিলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ আগে জানিয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে দুজন দুটি অটোরিকশায় করে দুদিকে চলে গিয়েছিলেন।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঘটনার দিন তাসফিয়ার ধারণা হয়েছিলো, তার মা সব জেনে গেছেন। সেই ভেবে সে (তাসফিয়া) পতেঙ্গা নেভাল বিচে চলে যায়। কিছুক্ষণ আইল্যান্ডে বসে থেকে সে নদীর পাড়ে পাথরের উপর গিয়ে বসে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দিকে তাসফিয়া হেঁটে যায় এবং তারপরই একটি চিৎকারের শব্দ আসে।’

তাসফিয়া চায়না গ্রিল থেকে বেরিয়ে যে অটো রিকশায় উঠেছিলো, তার ছবি পাওয়া গেলেও নম্বর শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.