আগামী মাসের মধ্যে এমপিওর ফয়সালা: শিক্ষামন্ত্রী

ফাইল ছবি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
প্রশ্নপত্র প্রণয়নে গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সব বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগে প্রশ্ন ব্যাংক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আজ রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম লুৎফা তাহেরের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, প্রশ্নব্যাংকের জন্য বোর্ডগুলোতে সফটওয়ার তৈরির কাজ চলছে। সফটওয়ারটি তৈরি হলে বাংলাদেশ পরীক্ষা মূল্যায়ন ইউনিট (বিইডিইউ) কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অনলাইনে তৈরিকৃত প্রশ্নপত্র প্রশ্নব্যাংকে পাঠাবেন। সেই প্রশ্নগুলো থেকে সুপার মডারেটর কর্তৃক মডারেশন হয়ে পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। এর ফলে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা সম্বব হবে।

সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর এমপিওভুক্তি করা সম্ভব হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া করতে পারি না। আমরা অর্থ ছাড়ের জন্য আরো আগে থেকেই অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করে যাচ্ছি। তবে ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী রাজি হয়েছেন এবং কিছু টাকা বরাদ্দও দিয়েছেন। এমপিওভুক্তির জন্য আমরা একটি ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন দিয়েছি। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করবেন। বাছাই করা হবে। কী ভিত্তিতে দেব, প্রধানমন্ত্রীর মতামত নিয়ে আগামী মাসের মধ্যে ফয়সালা হবে।

তবে কতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে অনেক বিষয় থাকে। আমরা চেষ্টা করছি বাড়ানোর জন্য। আগামী মাসের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যাবে। যে সব উপজেলায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই, সেখানে একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি দলের সদস্য আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উন্নয়নকে গতিশীল ও স্থায়ী করতে এসডিজিতে শিক্ষাকে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে তিন হাজার ৯৮৪ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৮ টাকা ব্যয়ে সর্বমোট ২৫৯ কোটি ৭৯ লাখ ২২ হাজার ৯০২ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে এক হাজার ২৩১জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে ৯ হাজার ৭০৩ টি ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে ৮ হাজার ৪০৫টি ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ২৪ হাজার ৬৪১জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীর মাঝে তাদের নিজ নিজ ভাষায় ৭৭ হাজার ২৮২টি পাঠ্য পুস্তক এবং ২০১৮ সালে ৫৮ হাজার ২৫৫জন শিক্ষার্থীর মাঝে এক লাখ ৪৯ হাজার ২৭৬টি পাঠ্য পুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। তিনিআরো বলেন, সরকার একটি দক্ষ ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং শিক্ষার সকল স্তরকে সম্পৃক্ত করতে আইসিটি ইন এডুকেশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষা নীতির আলোকে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ৩৪০টি পাঠ্য পুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষক-অভিভাবক-সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কমিউনিটি নেতা-ইমাম-গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুযোপযোগী করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ‘আল হাইয়াতুল উলুম লিলজামি আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদানের উদ্দেশ্যে খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি বর্তমানে সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.