দ্রুত নির্বাচন ও সহাবস্থানের পরিবেশ চান ছাত্রনেতারা

নিজেস্ব প্রতিবেদক পিটিবিনিউজ.কম
দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনের আয়োজন এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রনেতারা। আজ রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মতিন ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষে ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা এই দাবির কথা জানান।

রোববার দুপুর পৌনে ১২টায় শুরু হয়ে এ বৈঠক পৌনে চারটার দিকে শেষ হয়।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আমরা সবাই একমত হয়েছি। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবার মতামতের ভিত্তিতে ডাকসু নির্বাচন হতে হবে। আগামী তিন চার মাসের মধ্যেও সেটা হতে পারে।’

রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের বিষয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, ‘প্রতিটি হলে ৩০ শতাংশের বেশি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী নেই। বাকিরা সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী। আমরা মনে করি, সব সংগঠন সহাবস্থানেই রয়েছে। ছাত্রদল পেট্রল বোমা ছুড়বে না এবং ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি করবে না—এটা যদি নিশ্চিত করে তাহলে তাদের সঙ্গে সহাবস্থানে আপত্তি নেই।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি সহাবস্থানের বিষয়ে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি। আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। মেধার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করতে হবে। তখনই ডাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আসবে।’

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘আমরা বারবার ডাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চেয়েছি। কিন্তু তারা জানায়নি। কেউ-কেউ ডাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরের বিষয় নিয়ে ভাবছেন। আমরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি। অতএব জাতীয় নির্বাচনে আগে-পরে বিষয় ঠিক নয়, দ্রুততম সময়ে আমরা ডাকসু নির্বাচন নেই।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবীব বলেন, আমরা চাই নভেম্বরের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মতামত নেওয়ার জন্য, গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি, সংসদীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে আলোচনার জন্য বসেছি। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরে আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো।’

ছাত্র সংগঠনগুলো সহাবস্থানের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এটি একটি প্রক্রিয়ার অংশ। যা যা করণীয় তা হলের প্রভোস্টরা করবেন।

এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহ-উপাচার্য নাসরিন আহমাদ ও আবদুস সামাদ, কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন, প্রক্টর গোলাম রব্বানী প্রমুখ।

বৈঠকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতারা রেজিস্ট্রার ভবনে আসেন। তাঁরা রিকশায় করে সভাস্থলে আসেন। এর পরপরই ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি গাড়িতে করে সভাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামাত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.