ডাকসু নির্বাচন: ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক ঢাবি কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম

অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের  উদ্যোগের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদ। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মতিন ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও ডাকসু নির্বাচন করার উদ্যোগ না নেওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার এই আলোচনার সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোকে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সভায় যোগ দিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে মধুর ক্যান্টিন থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ে আসেন।

মিনিট পাঁচেক পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন সহকারী প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকীকে নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার তিন বাম সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্রফন্টের নেতারা সভাকক্ষে আসেন আলোচনা শুরুর কিছুক্ষণ পর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা উপস্থিত রয়েছেন এই সভায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর জানান, মোট ১৩টি ‘ক্রিয়াশীল’ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরের বছর যাত্রা শুরু করে ডাকসু। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে ডাকসু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা ছিলেন সামনের কাতারে। স্বাধীন বাংলাদেশেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো।

প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভোট হয়েছে মাত্র ছয়বার। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসু নির্বাচনের পর বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সে নির্বাচন আর হয়নি।

ছয় বছর আগের একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে চলতি বছর ১৭ জানুয়ারি এক রায়ে হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু সাত মাসেও নির্বাচনের কোনো আয়োজন দৃশ্যমাণ না হওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিস পাঠান রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তার জবাব না পেয়ে গত বুধবার তিনি হাই কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন উপাচার্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চে মামলাটির শুনানির জন্য উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন মনজিল মোরসেদ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.