শ্রীলঙ্কাকে ২৬২ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২৬২ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিং করতে মুশফিকুর রহিমের অন্যবদ্য সেঞ্চুরিতেই ২৬১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এদিন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক।

এর আগে আজ শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠ দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ১৪তম আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। যেখানে লঙ্কানদের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুরুটা বাজেভাবেই করে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের দুটি উইকেট হারায় দলটি। লাসিথ মালিঙ্গার পঞ্চম বলে স্লিপে থাকা কুশাল মেন্ডিসের ক্যাচে শূন্য রানে ফেরেন থাকা লিটন দাশ। পরের বলে উইকেটে আসা সাকিব আল হাসানকে একেবারে বোল্ড করে দেন এই অভিজ্ঞ লঙ্কান পেসার।

সুরাঙ্গা লাকমালের করা দলীয় দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে বাঁহাতের কবজিতে আঘাত পান তামিম ইকবাল। এমনিতেই ডানহাতের অনামিকায় তার পুরোনো চোট রয়েছে। পরে সে সময়ই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার।

দলীয় ২০তম ওভারে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান মোহাম্মদ মিঠুন। ৫২ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ফিফটি করেন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান মালিঙ্গার তৃতীয় শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। ২৬তম ওভারের তৃতীয় বলে তুলে মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষক পেরেরার তালুবন্দি হন তিনি। ৬৮ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ করেছিলেন মিঠুন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ১৩১ রান করেছিলেন তিনি।

২৭তম ওভারের তৃতীয় বলে লঙ্কান স্পিনার আমিলা আপোনসোর শিকার হয়ে ফেরেন নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ। ব্যক্তিগত এক ‍রানে তিনি ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার ক্যাচে পরিণত হন। পরের ওভারের শেষ বলে মালিঙ্গা নিজের চতুর্থ উইকেট উদযাপন করে মোসাদ্দেক হোসেনকে দিয়ে। এক রান করা মোসাদ্দেক উইকেটের পেছনে থাকা পেররাকে ক্যাচ দেন।

মুশফিকের সঙ্গে ভালো ব্যাটিং করতে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজ ৩৪তম ওভারে ফিরে যান। ১৫ রান করা এই অলরাউন্ডার সুরাঙ্গা লাকমালের কট এন্ড বোল্ডের শিকার হন।

১৮ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। ৩৯ ওভারের শেষ বলে ডি সিলভা আউট করেন তাকে। পরে ডি সিলভার শিকারে ২ রান করে ফেরেন রুবেল হোসেন।

৪১তম ওভারে দলীয় দুশো রানের গণ্ডি পার করে বাংলাদেশ। পরে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিকুর রহিম। ১৮৮ ম্যাচ ও ১৭৩ ইনিংসে এই কীর্তি গড়েন তিনি। ১২৩ বলে ৭টি চার ও এক ছক্কায় সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মুশফিক।

৪৭তম ওভারে ১০ রান করা মোস্তাফিজুর রহমান রান আউটের শিকার হন।

২২৯ রানে শেষ হতে পারতো বাংলাদেশের ইনিংস। কিন্তু সেটি হয়নি। তামিম ইকবালের দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সংগ্রহ হয় ২৬১। তামিম ইকবাল হাতে ব্যথা পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল থেকে তামিম ইকবালের হাতে ব্যান্ডেজ পরিয়ে দেয়া হয়। খবর ছড়িয়ে পড়ে এই ম্যাচে তামিম ইকবাল আর ব্যাট করতে নামতে পারবেন না। শুধু তাই নয়। এবারের এশিয়া কাপে তামিম ইকবাল আর খেলতে পারবেন না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ উইকেট জুটিতে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে মাঠে নেমে যান তামিম ইকবাল। এক হাত দিয়ে তিনি ব্যাট করেন তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ইনিংস: ২৬১ (৪৯.৩ ওভার)
(তামিম ইকবাল ২*, লিটন দাস ০, সাকিব আল হাসান ০, মুশফিকুর রহিম ১৪৪, মোহাম্মদ মিথুন ৬৩, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৫, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১১, রুবেল হোসেন ২, মোস্তাফিজুর রহমান ১০; লাসিথ মালিঙ্গা ৪/২৩, সুরঙ্গা লাকমল ১/৪৬, আমিলা আপোনসো ১/৫৫, থিসারা পেরেরা ১/৫১, দিলরুয়ান পেরেরা ০/২৫, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ২/৩৮, দাসুন শানাকা ০/১৯)।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.