‘বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা’ কামরুলের সংবাদ সম্মেলন

‘আসল বিএনপি’র নেতা কামরুল ইসলাম নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
নিজেকে ‘আসল বিএনপি’র প্রধান দাবি করা সেই কামরুল হাসান নাসিম ‘বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা’ হিসেবে গণমাধমের হাজির হয়েছেন। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলননে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে পুনর্গঠন করে জিয়াউর রহমান ও মশিউর রহমানের জাদু মিয়ার চুক্তি ও আদর্শ বাস্তবায়ন করবেন।’

একই ব্যক্তি ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখল করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। যদিও সেবার দৌঁড়ে পালিয়ে রক্ষা পান তিনি। আজকের সংবাদ সম্মেলনে আট পাতার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কামরুল হাসান। লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে কামরুল হাসান কিছুটা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

কামরুল হাসান বলেন, ‘বিএনপি ভাঙা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। পুনর্গঠন করা তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি চান বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। খালেদা জিয়ার জায়গায় তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন এবং কারাবরণ করবেন। রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব দেয়ার ‘যোগ্যতা নেই’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কামরুল হাসানের সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে লেখা ছিলো ‘বিএনপি পুনর্গঠন, সংবিধান, জাতীয়তা, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, জাতীয় নির্বাচন, শাসনরীতি ও জাতীয়তাবাদী শক্তির নতুন করে পথচলার একটি সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কিত ইস্যু।’

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে কামরুল হাসান বলেন, ‘জামাতকে ছাড়ুন, দল চলবে জিয়াউর রহমান ও মশিউর রহমান জাদু মিয়ার চুক্তির আলোকে ও আদর্শে অনুরণিত হয়ে। এ ছাড়া যদি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারেক রহমান দেশে না ফেরেন, তাহলে তাঁর আসার কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দল নিয়ে তারেক রহমানের না ভাবলেও চলবে।’

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে কামরুল হাসান বলেন, ‘নির্বাচন প্রতিহত করার প্রয়োজন নেই। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে শপথ বাক্য এই দেশে কাউকে পড়তে দেয়া হবে না। ৩০০ সংসদীয় আসনের প্রায় ৩২০ জন জনের মতো নেতা নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত। তাঁরা কার্যকারী সংসদে যেতে চান। তাঁরা মনে করেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাঁরাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ফেবারিট দল। গণতান্ত্রিক উপায়ে ধানের শীষ নিয়ে ওই ৩২০ জনের মধ্যে ৩০০ জনকে মনোনয়ন দেয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে কামরুল হাসান বলেন, ‘ব্যক্তি বিশেষ বাদ দিলে প্রায় সবাই আপনার দেয়া নানা অর্থনৈতিক উদ্যোগের উন্নয়ন ইস্যু নিয়ে মেতে থাকার অর্থ এই নয় যে, তাঁরা জনগণের জন্য আলাদা করে ভেবেছেন। তাঁরা ওই সব প্রকল্প নিয়ে কাজ করে ভাগ বাঁটোয়ারার ব্যবসায়ী বনেছেন। আমাদের সঙ্গে নির্বাচনের লড়াই করতে হলে দলীয় মনোনয়নে সতর্ক থাকবেন। আমরা ভোটযুদ্ধে শক্ত প্রতিপক্ষ চাই।’

এ ছাড়া অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি জানান কামরুল হাসান। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, পত্রিকার সম্পাদক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ মোট ৩১ জনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.