প্রেমের টানে দেশ ছেড়ে ঘর বেঁধেছে বাংলাদেশী যুবকের সঙ্গে ভারতীয় নারী

প্রতীকী ছবি।

শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
প্রেম মানে না বারন, মানে না শাসন, মানে না জাত-পাত কাল ভেদ অভেদ ধর্ম জাতি ও দেশ। সকল বাঁধা-নিষেধ উপেক্ষা করে সীমান্তরক্ষীদের কড়া নজরদারিকে ভয় না করে কাটাতারের বেড়া পেরিয়ে ভারত থেকে এক নারী বাংলাদেশী যুবকের প্রেমে পড়ে দেশ ছেড়েছে। এখন তারা ঘর বেঁধেছে সুখ ও স্বপ্নের। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে। এ নিয়ে আজ শনিবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’র মধ্যে পতাকা বৈঠকও হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবাংলার নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার চরমেঘনা গ্রামের বিশ্বজিত বিশ্বাসের মেয়ে সঞ্জনা বিশ্বাস (১৯) প্রেমের টানে ভারত সীমানা পেরিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে চলে আসে। পরে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে লাবু মিয়ার হাত ধরে ঢাকায় গিয়ে ঘর বাঁধে। এ ঘটনায় মেয়েটিকে ফেরত চেয়ে বিএসএফ বিজিবিকে পত্র দেয়। পত্র পেয়ে বিজিবি জামালপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর বাড়ি গিয়ে ভারতীয় মেয়ের সন্ধান চাইলে পরিবারের লোকজন বিজিবিকে জানায় তারা বাড়ির কাউকে না জানিয়ে ঢাকায় চলে গেছে। এ নিয়ে আজ শনিবার বেলা ১১টায় জামালপুর সীমান্তে ১৫২/৬(এস) সীমান্ত পিলার সংলগ্ন নোম্যান্সল্যান্ডে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের চরমেঘনা ক্যাম্পের অধিনায়ক ইন্সপেক্টর বান কে সিং এবং বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ প্রাগপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক নায়েক সুবেদার সুবোধ পাল। ৩০ মিনিট ব্যাপী চলা বৈঠকে ভারতীয় নারীর সন্ধান পেলে তাকে ফেরতের আশ্বাস দেয় বিজিবি।

মোবাইল ফোনে দুই দেশের দুই নর-নারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছি। এরই জের ধরে মেয়েটি ভারত থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশী যুবকের হাত ধরে ঢাকায় পাড়ি জমায়। তারা বিয়ে করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল মাষ্টার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রেমের সম্পর্কের টানে মেয়েটি ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসে এবং জামালপুর গ্রামের লাবু মিয়ার সঙ্গে ঢাকায় চলে যায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.