বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ’ উৎপাদন শুরু

ফাইল ছবি।

দিনাজপুর সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
৫২ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।  আজ শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ২টায় এ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট চালু করা হয়। বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হলো। শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম সরকার এ তথ্য জানান।

৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে নবনির্মিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। ফলে ওই ইউনিট থেকে ১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ হচ্ছে। ইউনিটটি চালু হওয়ার পর পরই উত্তরাঞ্চলে লোড সেডিং ও লোভোল্টেজ কিছুটা কমেছে।

প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের স্টিম বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় চালু করা হয়। শুক্রবার রাত ২ টা ২৭ মিনিটে চালু হওয়া ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। ওই সময়ে ১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, চালু হওয়া ইউনিটটি চালাতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে। আপাতত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে আট হাজার মেট্রিক টন কয়লা পাওয়া গেছে। ওই কয়লা দিয়েই উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। কয়লার মজুদ বাড়লে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট দুটিও চালু করা হবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান জানান, প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ আগস্ট খনির ১৩১৪ নাম্বার ফেজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আট হাজার ৩৬২ মেট্রিকটন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। ওই কয়লা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন দুই হাজার টনের মতো কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা চার হাজার টনে উন্নীত হবে।

তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বড়পুকরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট চালাতে গেলে প্রতিদিন ৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন। কয়লার মজুদ বৃদ্ধি না পেলে অবশিষ্ট ইউনিট দুটি চালু করা সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া খনির ওপর নির্ভর করে খনির পার্শ্বে কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ও ১২৫ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্রটি পূর্ণ উৎপাদন থাকলে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। কয়লার অভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার দারপ্রান্তে উপনিত হলে খনির ইয়ার্ড থেকে প্রায় ২৩০ কোটি টাকার প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার টন কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনাটি ধরা পড়ে গত ১৯ জুলাই।

জ্বালানি সংকটে পড়ে দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গত ২২ জুলাই রাতে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে লো ভোল্টেজ সমস্যা এড়াতে ২০ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটি চালু রেখে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিলো।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*