নৌপথে মানব পাচারের অভিযোগে কলেজশিক্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
নৌপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম। সোমবার সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

সিআইডির বিশেষ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, একটি মানব পাচার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ আছেমের জড়িত থাকার তথ্য পান তারা। পরে রোববার বিকালে ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তেজগাঁও কালেজের বিবিএর প্রভাষক আছেমের বাসা ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারে। তাদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। তার বাবা আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন এবং ভাই মোহাম্মদ খোবায়েদ এখনো সেখানে আছেন।

সোমবার ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মোল্ল্যা নজরুল বলেন, ২০১৪ সালে মাসুদ নামে সিরাজগঞ্জের এক তরুণকে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর পর সেখানে তাকে আটকে রেখে দেশে তার স্বজনদের ফোন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মাসুদের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকের মহাখালী শাখার একটি অ্যাকাউন্টে তিন লাখ ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। তারপরও মাসুদ মুক্তি না পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায় ২০১৬ সালের মার্চ মাসে মানব পাচার আইনে মামলা করেন তারা।

ওই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি কর্মকর্তারা ইসলামী ব্যাংকের মহাখালী শাখায় সেই অ্যাকাউন্টের মালিকের বিষয়ে খোঁজ খবর শুরু করেন। ওই তদন্তেই মোহাম্মাদ আছেমের নাম পাওয়া যায়। এরপর গত বছর মে মাসে বনানী থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা করা হয়। সিআইডি ওই মামলারও তদন্ত করছে।

মোল্ল্যা নজরুল বলেন, আছেমকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার অ্যাকাউন্ট ছাড়াও তার বাবা-মা ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আছেমের যে ভাই মালয়েশিয়ায় থাকেন, তার সহযোগিতা নিয়ে হাজার হাজার মানুষকে অবৈধ পথে কক্সবাজার, থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে এই পরিবারটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

যাদের তারা মালয়েশিয়া পাঠিয়েছে, তাদের অধিকাংশই সেখানকার কারাগারে রয়েছেন অথবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে তথ্য দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

আছেম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাবা-মা আত্মগোপনে গেছেন জানিয়ে মোল্যা নজরুল বলেন, ‘ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য ছাড়াও অনেক স্থাবর সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে এই পরিবারটির। আছেমের পরিবারের অন্য যে সদস্যরা মানব পাচারে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়ে সেখানে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল ফাইনানশিয়াল সার্ভিসও ব্যবহার করছিলো ওই পরিবার। আছেম তার নিজের নামে ছাড়াও তার ছোট ভাই জাভেদ মোস্তফা, মা খদিজার নামে এবং তার সহযোগী আরিফ, একরাম, ওসমান সারোয়ারের নামে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রায় নয় কোটি টাকা লেনদেন করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

মোল্যা নজরুল বলেন, ‘তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক আছেমের সঙ্গে আরো বেশ কয়েকটি চক্র জড়িত এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আছেম এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*