কমলাপুরে টিকিটপ্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড়

ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেলের আগাম টিকিট পেতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ।  টিকিটপ্রত্যাশী অনেকেই আগের দিন বিকালে এসে কমলাপুরে রাত কাটিয়েছেন। আগাম টিকিট বিক্রির তৃতীয় দিন আজ শুক্রবার (১০ আগস্ট) দেয়া হচ্ছে ১৯ আগস্টের টিকিট।  আজ সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়।এদিকে, আগাম টিকিট বিক্রিতে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে।
মোট ৩৫টি আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য ২৬ হাজার ৮৯৫টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে এদিন।  টিকিটপ্রত্যাশীরা বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে স্টেশনে আসতে শুরু করেন।  ভোর হতে না হতে তাদের সারিবদ্ধ লাইন দীর্ঘ হতে হতে স্টেশনের বাইরে চলে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যে ২৬টি কাউন্টার থেকে টিকিট দেয়া হচ্ছে এর প্রতিটিতেই ছিল মানুষের দীর্ঘ সারি। স্টেশন চত্বরে তিল ধারনের জায়গা নেই। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই চোখে পড়ে মানুষ আর মানুষ। মানুষের এই দীর্ঘ লাইন স্টেশন ছেড়ে সড়কে গিয়ে ঠেকেছে। এদিকে, ৯-১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই টিকিট পেয়েছেন।  আবার কেউ ফিরেছেন শূন্য হাতে। নারী যাত্রীদের লাইনও ছিলো দীর্ঘ। টিকিট পেতে অনেকে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরেও লাইনে আছেন। সময় যত গড়াচ্ছে, টিকিট প্রত্যাশীদের লাইনও তত দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে টিকিট বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন কাউন্টারের কর্মকর্তারা।

সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, টিকিট নিতে গতকাল রাত আটটার দিকে স্টেশনে এসেছি। সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আমার সামনে আর তিনজন আছেন। কাঙ্ক্ষিত টিকিট যে পাবো এটা আমি নিশ্চিত।

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইনে অপেক্ষা থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী আফজাল হোসেন বলেন, ঈদের সময় ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে ওই সময় ট্রেনে ওঠাই মুশকিল। তারপরেও সড়কপথে অতিরিক্ত যানজট হওয়ার শঙ্কা থাকায় ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছি। আমার সামনে লাইনে অনেক মানুষ। শেষ পর্যন্ত টিকিট পাব কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। তাদের মতো অনেক যাত্রী অপেক্ষায় আগাম টিকিটের জন্য লাইনে আছেন।

নীলসাগর ট্রেনের টিকিট পেতে গত রাত থেকে স্টেশনে অপেক্ষা করছেন শফিকুল আলম।  তিনি বলেন, সড়কপথের যানজট এড়াতে ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছি।  রাত এখানেই কাটিয়েছি।  তবুও লাইন শেষ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত টিকিট পাবো কিনা সে নিশ্চয়তাও নেই।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান,  আগামী ১৯ আগস্ট সারাদেশের উদ্দেশে মোট ৬৮টি ট্রেন ছেড়ে যাবে।  এর মধ্যে ৩৫টি আন্তঃনগর, বাকিগুলো মেইল ও স্পেশাল সার্ভিস। ওই দিনের জন্য আজ মোট ২৬ হাজার ৮৯৫টি টিকিট বিক্রি হবে।  তিনিবলেন, রেলওয়ে প্রতিদিন দুই লাখ ৬০ হাজার যাত্রী বহন করে।  তবে ঈদুল আজহার সময় প্রতিদিন তিন লাখ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন।  যেকোনো ধরনের ঝামেলা এড়াতে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আছেন।
বুধবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া আগাম টিকিট বিক্রি চলবে আগামী সোমবার (১২ আগস্ট) পর্যন্ত।  শনিবার (১১ আগস্ট) দেওয়া হবে ২০ আগস্টের টিকিট, রোববার দেয়া হবে ২১ আগস্টের আগাম টিকিট।  একইভাবে আগামী ১৫ আগস্ট থেকে ঢাকা ফেরত যাত্রীদের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট যথাক্রমে পাওয়া যাবে ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ আগস্টের টিকিট।
কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কালোবাজারে টিকিট বিক্রি প্রতিরোধে র‌্যাব, পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতদের তাৎক্ষণিকভাবে সাজা দিতে পরিচালনা করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রতিবারের মতো এবারো একজন চারটি টিকিট অগ্রিম কিনতে পারবেন।  কমলাপুরের ২৬টি কাউন্টারের মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য।  প্রতিদিন দুই লাখ ৬০ হাজার যাত্রী রেলে ঢাকা ছাড়তে পারবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.