সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া অনুমোদন, সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর জেল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ -এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অনুমোদনের কথা জানান। এরপর আইনটি সংসদের আগামী অধিবেশনে তোলা হবে পাসের জন্য৷ সেখানে পাস হলে আইনটি কার্যকর হবে।

এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নিজ দপ্তরে প্রস্তাবিত আইনের ব্যাখ্যা দেন। আইনমন্ত্রী বলেন, বেপরোয়া ও অবহেলা করে গাড়ি চালানোয় কেউ গুরুতর আহত বা কারো মৃত্যু হলো সে জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সাজা হবে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, যদি তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় তাহলে দণ্ডবিধি ৩০২ এবং ক্ষেত্রমতে ৩০৪ এই আইনে প্রযোজ্য হবে। তার মানে, কোনো একটা দুর্ঘটনা হলো। কিন্তু দেখা গেলো, তা শুধু সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না, এখানে চালক ইচ্ছে করলে দুর্ঘটনা এড়াতে পারতো এবং তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তখন দণ্ডবিধির ৩০২ অনুযায়ী (মৃত্যুদণ্ড) বিচার হবে।

আনিসুল হক বলেন, কিন্তু মনে রাখতে হবে, তদন্ত ও তথ্যের ওপর নির্ভর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এটা ঠিক করবে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম আইনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চালকদের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের পাশ হতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবেন না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে চালকের ভুলের জন্য ১২টি পয়েন্ট রাখা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে এসব পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট এভাবে শূন্য হয়ে গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।

শফিউল আলম বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে: গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না, সিট বেল্ট বাঁধতে হবে, নারীদের আসনে অন্য কেউ বসতে পারবে না। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি তহবিল থাকবে। সেটা পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকবে। সরকার, চালক সমিতি, মালিক সমিতি মিলে এই বোর্ড গঠন করা হবে।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে নয় দফা দাবি জানানো হয়েছিলো, তাতে দুর্ঘটনায় চালকের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে দাবি জানানো হয়েছিলো। পরিবহন মালিক শ্রমিকরা বরাবর এই সাজার বিরোধী। এমন সাজা হলে গাড়ি চালানো বন্ধের হুমকিও এসেছে নানা সময়। এই আন্দোলন চলাকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি অনুমোদন হবে আর এটি পাস হলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আরও কার্যকরভাবে কাজ শুরু করতে পারবেন তারা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.