নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রধান শর্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি: বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিকেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রধান শর্ত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তাকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না এবং সেই নির্বাচন হতেও দেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা। পাশাপাশি নির্বাচনে যেতে সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া ও ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানানো হয়। আজ শুক্রবার (২০ জুলাই) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে এক সমাবেশে দলটির নীতিনির্ধারকেরা এ কথা বলেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং তার মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পুলিশের অনেকগুলো শর্ত মেনেই সমাবেশ করে বিএনপি।

দলটির নেতারা বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০ আসনও পাবে না বলেই তারা নানা ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি যে দাবি তুলেছে তা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দাবি জানিয়ে আসেছে।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এটা তাদের প্রথম ও প্রধান শর্ত। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার গঠন ছাড়াও সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে। এসব দাবির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সকল রাজনৈতিক দলসহ পেশাজীবীদের প্রতি আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সকল রাজনৈতিক দল আর জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা হবে। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদের পরাজিত করা হবে।

নতুন বাম মোর্চাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রকামী সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হোন। তিনি বলেন, যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে আওয়ামী লীগ ২০টি আসনও পাবে না। সরকার ব্যাংকগুলো শেষ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা সোনাগুলো নাকি ধাতু হয়ে গেছে।

কোটা নিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, যখন আন্দোলন তুঙ্গে তখন প্রধানমন্ত্রী রেগে সংসদে বলেছেন, কোনো কোটা থাকবে না। আর এখন কি করছে, যারা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তাদের গুম করা হচ্ছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করছে। এখন ছাত্রলীগের ভূমিকা পাকিস্তান আমলে ইয়াহিয়া খানের ছাত্র সংগঠনের মতো।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামলে এই সরকারের পতন ঘটবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, অন্যায়ভাবে জোর করে আজ সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খালেদা জিয়াকে আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্ত করা সম্ভব না হলে রাজপথেই হবে একমাত্র পথ।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের একটাই উদ্দেশ্য দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, তাকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে যাবো। কেউ যদি মনে করেন ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন, সেই আশা পূরণ হবে না।

দলের স্থায়ী কমিটির ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকার সংসদে ১০ টি আসনও পাবে না। পাতানো নির্বাচনের চক্রান্ত কোনদিন সফল হবে না।

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই সরকারের অধীনে বাংলাদেশে আর কোনো নির্বাচন নয়।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল হাবিব দুলু, শামা ওবায়েদ, শিরিন সুলতানা, আমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিমউদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

সমাবেশকে ঘিরে দুপুরের আগে থেকেই পল্টন সড়কের বিভিন্নস্থানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উভয় পক্ষই সর্বক্ষণ সজাগ ছিলো। বিকাল ৩টায় এই সমাবেশ শুরু হয়। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে জুমার নামাজের পর থেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতা-কর্মীরা। দুপুর আড়াইটার মধ্যে ফকিরাপুল থেকে শুরু করে কাকরাইল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের ভিড়ে সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক দিনপর সমাবেশ করার সুযোগ পাওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিলো না। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে বারবার স্লোগান দেন। সমাবেশে শেষ হয় বিকাল সোয়া ৫টায়।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও নয়াপল্টনে সমাবেশ করার জন্য প্রথমে ২২ ফেব্রুয়ারি, পরে ১২ মার্চ, ১৯ মার্চ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দলের পক্ষ থেকে সমাবেশের জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৩ শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি; সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.