খালেদা ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এক ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাইদ এ পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী ঢাকার আদালতে পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শাহবাগ থানায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) জাফর আলী গত ৮ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিচারক বুধবার মামলার প্রতিবেদন গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন এ বি সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, গত ৮ জুলাই আদালতে দাখিল করা মামলাটির প্রতিবেদনে শাহবাগ থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর জাফর আলী এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তাই আসামিদের আদালতে হাজির করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া প্রয়োজন। বাদীর আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) মামলাটি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘তিনি তো (বঙ্গবন্ধু) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আজকে বলা হয়, এতো শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’

খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য পরদিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হয়। ওই বক্তব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করে, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় অপরাধ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার অপর আসামি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ২০১৫ বছরের ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন, তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন? আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে?’ এ বক্তব্য পরদিন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হয়।

খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। আদালত মামলাটি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। গত ৮ জুলাই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে খালেদা ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আলী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.