মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন: গাজায় সংঘর্ষে ৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে চলমান বিক্ষোভে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ২,৪০০ জন আহত হয়েছেন। খবর বিবিসির।

সোমবার জেরুজালেম মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। যা ফিলিস্তিনের জনগণকে ক্ষুদ্ধ করেছে। তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ও তার স্বামী জারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। তারা দুজনেই হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।

ফিলিস্তিনের জনগণ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো জেরুজালেম শহর নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে। অথচ জেরুজালেমের পূর্ব অংশের দাবিদার ফিলিস্তিন। সেখানে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের অবস্থান। ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের বিরুদ্ধে গাজা ও পশ্চিম তীরের জনগণ গত ছয় সপ্তাহ ধরে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ স্লোগানে আন্দোলন করেছে।

ফিলিস্তিনের নাগরিকরা গাজা সীমান্ত থেকে ইসরায়েলিদের উদ্দেশ্যে পাথর ও আগুনে গোলা নিক্ষেপ করছে। যখন বিক্ষোভকারীরা গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে কালো ধোঁয়ার সৃষ্টি করছে ঠিক তখনই ইসরায়েলি সেনারা স্নাইপারের গুলিতে হত্যা করছে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের।

ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক সীমান্ত বেড়ার কাছে বিক্ষোভ করছে। তারা নিয়মনীতি মেনেই ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণ করছে।

গত বছর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ থাকার কয়েক দশক ধরে অনুসৃত নীতি থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রে যে কন্স্যুলেট ভবন আছে সেখানেই ছোট পরিসরে অন্তর্বর্তীকালীন এ দূতাবাসটি চালু করা হচ্ছে। পরে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস ভবন নির্মিত হলে তেল আবিব থেকে দূতাবাসের অপরাপর অংশও এখানে নিয়ে আসা হবে।

তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার এ সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল প্রশংসা করলেও ফিলিস্তিনিরা মার্কিন এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে শুরু থেকেই এর প্রবল বিরোধিতা করেছে।

জেরুজালেমকে নিজেদের ‘শাশ্বত ও অখণ্ড’ রাজধানী বলে বিবেচনা করে ইসরায়েল। অপরদিকে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেম দাবি করে। তারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*