ভারতে প্রধান বিচারপতির অভিশংসনে রাজ্যসভায় সাত বিরোধী দলের আরজি

নিউজ ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রকে অভিশংসনের জন্য নোটিশ দিয়েছে রাজনৈতিক সাত বিরোধী দল। এই দলগুলো হলো- কংগ্রেস, এনসিপি, সিপিআই (এম), সিপিআই, সমাজবাদী পার্টি, আইইউএমএল ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি)। আজ শুক্রবার (২০ এপ্রিল) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডুর কাছে এ সংক্রান্ত একটি আরজি জমা দেয়া হয়েছে। এই আরজিতে স্বাক্ষর করেছেন কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী সাতটি দলের নেতারা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের কোনো প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হয়নি। সেই হিসেবে এটি নজিরবিহীন একটি পদক্ষেপ। হিন্দুস্তান টাইমসের এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের নেতারা বলেছেন, ‘খুব দুঃখের সঙ্গে’ এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। নেতারা বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপের মুখে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে না পারায়’ প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসনের আরজি জানানো হয়েছে। তাদের (নেতারা) দাবি করেছেন, দীপক মিশ্রকে অভিশংসনের আরজির প্রতি রাজ্যসভার ৬০ জনের বেশি সদস্যের সমর্থন রয়েছে। এ ধরনের নোটিশের ক্ষেত্রে রাজ্যসভার কমপক্ষে ৫০ জন সদস্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।

প্রধান বিচারপতির অভিশংসনের প্রস্তাবে যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, সিপিআই (এম), সিপিআই, সমাজবাদী পার্টি, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টি থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যরা। অভিশংসনের নোটিশে স্বাক্ষরের আগে এসব রাজনৈতিক দলের নেতারা পার্লামেন্টে এক সভায় একসঙ্গে বসে প্রস্তাব চূড়ান্ত করেন।

কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেন, মোট ৭১ জনের স্বাক্ষর নিয়ে আমরা নোটিশটি জমা দিয়েছি। এর মধ্যে অবসর নেওয়া ছয়জনও আছেন। তাঁদের গণনায় আনা হবে না। কংগ্রেসের আরেক নেতা কপিল সিবাল বলেন, আমাদের আশা, এমন দিন যেন আর কখনো না আসে।

অন্যদিকে কংগ্রেসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির অবসানে সংবিধানে একটি পথেরই উল্লেখ আছে। অভিশংসন ব্যতীত অন্য কোনো পথ না থাকায় রাজ্যসভার সদস্যরা দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে এ পদক্ষেপ নিয়েছি।’

এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে অসদাচরণের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে বিরোধী দলগুলো। গত জানুয়ারি মাসেই এই অভিযোগগুলো উঠেছিলো। তখন চারজন বিচারক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেছিলেন।

গতকাল প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ জানিয়েছেন, বিচারক বিএইচ লোয়ার মৃত্যুর ঘটনার কোনো তদন্ত করা হবে না। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার বিচারক ছিলেন বিএইচ লোয়া। ২০১৪ সালে হৃদ্‌রোগে তাঁর মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিএইচ লোয়ার মৃত্যুর তদন্ত না করার রায় দেয়ায় প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসনের আরজি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। তবে কংগ্রেস এ কথা অস্বীকার করেছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ব্যাপারে অসন্তুষ্টি জানিয়েছে দলটি। একে ‘ভারতের ইতিহাসের দুর্দশার দিন’ বলে অভিহিত করেছে কংগ্রেস।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসনের আরজি পাওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেঙ্কাইয়া নাইডু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন।

তবে অভিশংসনের নোটিশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের স্বাক্ষর নেই। কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল জানিয়েছেন, ইচ্ছে করেই মনমোহন সিংকে এর মধ্যে রাখা হয়নি। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেই এ কাজ করা হয়েছে।

ভারতের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল সোলি সোরবজি বলেছেন, শুধু সুনির্দিষ্ট অসদাচরণের অভিযোগেই অভিশংসনের নোটিশ দেয়া যায়। সে ক্ষেত্রে অসদাচরণের প্রমাণ দাখিল করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভুল রায় দিয়েছেন—এটি মনে করে কোনো প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসনের জন্য নোটিশ দেয়া যায় না।

ভারতের ইতিহাসে কোনো প্রধান বিচারপতির অভিশংসন চেয়ে এমপিদের এভাবে আন্দোলনের ঘটনা নজিরবিহীন। যদিও সংসদের উভয়কক্ষে বিজেপির নিয়ন্ত্রণ থাকায় এমপিদের দাবিটি পূরণের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*