ট্রাম্প নৈতিকভাবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য: কোমি

ছবি: এএফপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসাবে ‘নৈতিকভাবে’ যোগ্য নন, কারণ তিনি নারীদের মাংসের টুকরো হিসাবে মনে করেন। মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমি এবিসি টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেছেন। খবর বিবিসির।
গত বছর বরখাস্ত হওয়ার পর ১৫ এপ্রিল, রবিবার রাতে প্রথমবারের মতো টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেন কোমি।

এবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেমস কোমি বলেন, ট্রাম্প অব্যাহতভাবে মিথ্যা বলে চলেছেন এবং হয়তো বিচারের কাজেও বাধা তৈরি করছেন। তিনি (ডোনাল্ড ট্রাম্প) শারীরিকভাবে অযোগ্য বলে আমি মনে করি না। আমি মনে করি, নৈতিকভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন।

এ প্রসঙ্গে জেমস কোমি আরো বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই সম্মান অর্জন করতে হবে এবং যে ভিত্তিগুলোর ওপর দেশ গঠিত হয়েছে, তার প্রতি মূল্যবোধ থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সত্য বলতে হবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট সেটা করতে পারছেন না।

কোমি বলেন, ট্রাম্প সব সময় অনুগত লোকদেরই নিজের পাশে রাখেন। অনেকটা মব বসের মতো। কিন্তু একজন প্রেসিডেন্টের চ্যালেঞ্জ হলো যে তিনি তাঁর চারপাশে সব মতবাদের মানুষই রাখবেন। তবে যতই কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ হোক না কেন, ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না বলেও মনে করেন কোমি।

কোমির এই সাক্ষাৎকার প্রচারের পরপরই ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বইয়ের কাটতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এসব বলছেন কোমি। এতে আরো বলা হয়, কোমির মধ্যে যে বিদ্বেষ রয়েছে, তার চেয়েও খারাপ হলো বই বিক্রি করার জন্য তাঁর এই বক্তব্য। কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে আসছে কোমির লেখা বই ‘আ হায়ার লয়ালটি-ট্রুথ, লাইজ অ্যান্ড লিডারশিপ’।

২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সার্ভার হ্যাক হয়। তখন থেকেই নির্বাচনে সম্ভাব্য রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছিলেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রাশিয়া-ট্রাম্প যোগসাজশের এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত করছিলেন কোমি। যদিও রাশিয়া বরাবরই এই হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। ট্রাম্পও দাবি করে আসছেন, এর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। ২০১৭ সালের মে মাসে হঠাৎ করে তাঁকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। পদচ্যুতের বিষয়টি কোমি জানতে পারেন গণমাধ্যমের মাধ্যমে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*