বাগেরহাটে ঝুঁকিতে ঐতিহ্যবাহি অযোধ্যা মঠ

ছবি: অযোধ্যা মঠ।

এস এম রাজ, বাগেরহাট সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
বাগেরহাটে অযত্নে আর অবহেলায় ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহি অযোধ্যা মঠ। মঠের উপরিভাগে বেড়ে ওঠা পরগাছা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে মূল্যবান প্রাচীন এ স্থাপনাটি ধংশ হয়ে যাচ্ছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাজার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বারুইপাড়া ইউনিয়নের ভৈরব নদীর পূর্ব তীরে কোদলা গ্রামে অবস্থিত ঐত্যিবাহি এ মঠটি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হলেও প্রাচীন এ মঠটি দেখতে আশা পর্যাটকদের জন্য নেই নূন্যতম সুবিধা। আর এ কারণে স্থাপত্য নান্দনিকতায় এটি দেশের সবচাইতে সুন্দরতম মঠ হলেও এখানে বেড়াতে আসা দর্শার্থীনা পড়ছেন নানা বিড়াম্বনায়।

কবে কার দ্বারা এ মঠ নির্মিত হয়েছিরো তার সঠিক কোন তথ্য না পাওয়া গেলেও বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহি এ মঠটি সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে নির্মিত। বহুকাল আগে মঠের দক্ষিণ কার্নিসের নিচে প্রায় অদৃশ্যমান দুই লাইনের একটি ইটে খোদাই করা লিপি অনুযায়ী দেবতার অনুগ্রহ লাভের আশায় কোনো এক ব্রাহ্মণ মঠটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে জনশ্রুতি আছে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য তার সভাসদ গৃহের পন্ডিত অবিলযম্বা সরস্বতীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মঠটি নির্মাণ করেন।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঠটির দেয়ালে লাল রংঙের ইটের উপর খোদাই করা অলঙ্কারগুলো অযত্ন আর অবেহলোয় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মঠে প্রবেশ দরজার ওপরের অংশে পোড়া মাটিতে আকর্ষণীয় অলঙ্কার করা বেশ কয়েকটি ইট নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে ইটের ওপর খোদাই করা কারুকাজ গুলো নষ্ট হয়ে নিচে পড়ছে। মঠের ওপরে জন্ম নেওয়া পরগাছার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেয়াল।

মঠের দ্বায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার সামছুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মঠের ওপরে জন্ম নেওয়া পরগাছা গুলো পরিস্কার করার জন্য কোনো উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়নি। যে কারণে পরগাছার শিকরে মঠের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এগুলো মঠের ওপরে অংশে হওয়ার কারণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে তা কেটে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি সম্পর্কে খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর অবগত ধাকলেও পরগাছা গুলোর ব্যাপারে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া রাতে এখানে কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। কোনো হোটেল ও বাথরুম না থাকায় বিশেষ কোনো দিন ছাড়া দর্শনার্থীরা খুব কম আসে।

যশোর থেকে অযোধ্য মঠ দেখতে আসা খায়রুজ্জামান বলেন, অযোধ্যা মঠ সম্পর্কে বইতে অনেক পড়েছি কিন্তু বাস্তবে দেখা হয়নি। তাই সময় পেয়ে ঐতিহ্যবাহি এ মঠটিকে দেখতে আসা। কিন্তু এখানে আসার পর সদস্যায় পড়ে গেছি। মঠের আশপাশের কোন খাবার হোটেল বা দোকান না থাকায় মঠটি ভালোভালে ঘুরে না দেখেই ফিরে যেতে হচ্ছে।

অযোধ্যা মঠ দেখতে আসা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা বাসিন্দা মিলি আক্তার বলেন, নিজ জেলাতে ঐতিহ্যবাহি এ মঠটি থাকলেও সময় সল্পতার কারনে দেখতে আসা হয়নি। তাই সময় বের করে মঠটি দেখতে আসা। তবে এখানে আসার পর কোন বাথরুম না থাকায় বিড়াম্বনায় পড়েছি। এ কারনে অল্প সময় থেকে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টডিয়ান গোলাম ফেরদাউস বলেন, খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন উপ-প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরির্দশ করেছেন। তিনি অযোধ্যা মঠটি ব্যাপক সংস্কার করার জন্য একটি প্রাককলন তৈরী করেছেন। আশা করি চলতি বছরের মধ্যে কাজ শুরু হতে পারে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*